মৎস্যসম্পদ রক্ষায় হালদায় প্রযুক্তির ছোঁয়া, ৭ লাখ টাকা মূল্যের ড্রোন দিয়ে নজরদারি শুরু

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৫, ১৭:১৬

চট্টগ্রামের হালদা নদীতে মা মাছ রক্ষায় এবার ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রামের মোবারকখিল এলাকায় ড্রোন উড়িয়ে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও অবৈধ কর্মকাণ্ড ঠেকাতে চারটি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। নদীর পরিবেশ রক্ষা ও মা মাছ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

রাউজান উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলমীর হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, 'হালদা ও কর্ণফুলী নদীর মোহনা পর্যবেক্ষণের জন্য মৎস্য অধিদপ্তর থেকে চারটি ড্রোন দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে ১২টি টিম নদী নজরদারি করবে। এতে অবৈধ জাল ফেলা বা মা মাছ ধরা বন্ধে বড় ভূমিকা রাখবে।'

তিনি আরও জানান, প্রতিটি ড্রোনের মূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনা হয়েছে।

এর আগে সকালে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার গহিরা এলাকায় মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পরে স্পিডবোটে চড়ে তিনি হালদা নদীর প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখেন। দুপুর ২টায় মোবারকখিলে হালদার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

সভায় ফরিদা আখতার বলেন, "হালদা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। একে একা রক্ষা করা সম্ভব নয়, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।'

নদী দূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'যারা নদীতে বর্জ্য ফেলে, তারা পরিবেশকে দূষিত করছে না বরং নির্যাতন করছে। তাদের দূষণকারী নয়, নির্যাতনকারী হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। এতে সমস্যার সমাধান সহজ হবে।'

হালদা নদী উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব আবদুল করিম, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুর রউফ, নৌ পুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিন, হালদা প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা গবেষক অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া, মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক আনোয়ার হোসেন এবং হালদা রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আলী।

ইত্তেফাক/আইএ