ময়মনসিংহ সদরের শম্ভূগঞ্জ-বোররচর 

লাপাত্তা ঠিকাদার, এলাকাবাসীর ভোগান্তি ও পথের কাঁটা চার কিলোমিটার সড়ক

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৫, ১৭:২৫

ময়মনসিংহ সদরের শম্ভূগঞ্জ থেকে বোররচর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের মাঝপথে চার কিলোমিটার অংশ সংস্কার শুরু করে মাঝপথেই কাজ ফেলে ‘লাপাত্তা’ হয়ে গেছেন ঠিকাদার। প্রায় তিন বছর ধরে এই অবস্থায় পড়ে থাকা সড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আশপাশের চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা এবং গাফিলতির কারণেই জনভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

ইটের খোয়া আর গর্তেই আটকে মানুষের জীবন
সরেজমিনে দেখা যায়, চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের শেষ সীমানা থেকে জয়বাংলা বাজার পর্যন্ত সড়কের চার কিলোমিটার জুড়ে শুধু ইটের খোয়া পড়ে আছে। বছরের পর বছর সড়ক মেরামতের কোনো কাজ না হওয়ায় এসব খোয়ায় তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। কিছু গর্ত এতটাই গভীর হয়ে উঠেছে যে, প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে। যানবাহন উল্টে যাচ্ছে, অটোরিকশা বিকল হচ্ছে, পথচারীরাও হাঁটতে পারছেন না।

কৃষক থেকে প্রসূতি—সবাই ভোগান্তিতে
স্থানীয় কৃষক মুরশেদ আলী বলেন, “চরাঞ্চলে প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়। কিন্তু এই সড়ক দিয়ে ঠিকমতো পণ্য পাঠানো যায় না বলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”

অটোরিকশাচালক মোফাজ্জল হোসেন জানান, “সড়কের বেহাল দশায় সময়মতো রোগী নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পৌঁছানো যায় না। কিছুদিন আগে একজন প্রসূতি নারী গাড়িতেই সন্তান প্রসব করেন।”

ট্রাকচালক সাইদুল মিয়া বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে গেলে তেল খরচ বাড়ে, নাট-বল্ট খুলে পড়ে, মাঝেমধ্যে গাড়ি বিকলও হয়ে যায়।”

স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রশিদ বলেন, “চার কিলোমিটার সড়ক আমাদের জীবনে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘুরপথে যেতে হচ্ছে শহরে। তীব্র অসন্তোষের মধ্যেও এলজিইডির কোনো উদ্যোগ নেই।”

ঠিকাদার সাইফুল ‘নিখোঁজ’, এলজিইডির দায় এড়াতে চেষ্টার অভিযোগ
২০২২ সালে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সড়ক সংস্কার কাজের দায়িত্ব পায় ‘সাদিয়া অ্যান্ড সামিয়া এন্টারপ্রাইজ’। কাজ শুরুর কিছুদিন পরই ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম কাজ ফেলে আত্মগোপনে চলে যান। তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এলজিইডি ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান রহমান রাসেল জানান, “সড়কের বেহাল দশায় আমরা অবগত। অচিরেই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। কাজ শেষ হলে ভোগান্তিও কমে যাবে।”

ইত্তেফাক/এএইচপি