মোংলায় ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়কে চরম অনিয়ম, দুর্ভোগে জনসাধারণ

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৫, ১৮:১৭

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বাঁশতলা ও চিলা ইউনিয়নের সংযোগস্থলে পুটিমারী খালের উপর নির্মাণাধীন একটি ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়কে চরম অনিয়ম এবং অসমাপ্ত কাজ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। গার্ডার ও কলাম নির্মাণ শেষ হলেও এখনও স্লোপ ও বোর্ড নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

স্লোপের কাজ না হওয়ায় ব্রিজের উভয় পাশে সাঁকো দিয়েই পারাপার করতে হচ্ছে। এতে করে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুলপড়ুয়া শিশু ও বয়স্করা। বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দারা জানান, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রতিনিয়ত। আর মালামাল আনতে হয় মোংলা শহর থেকে ঘুরে ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে।”
জনপ্রতিনিধিদের উদ্বেগ

সুন্দরবন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ ইসরাফিল শেখ বলেন, “ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় পুরো এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন। সবচেয়ে কষ্টে আছে শিক্ষার্থীরা। কাজ দ্রুত শেষ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”

মোংলা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ নাবীদুল হাসান বলেন, “২০১৯ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে সংশোধিত পরিকল্পনা (রিভাইজ) অনুমোদিত হয়েছে। তবে সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান। নির্দিষ্টভাবে কাজ কবে শেষ হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।”

অ্যাপ্রোচ সড়কের সম্ভাব্য নির্মাণ এলাকায় বসবাসরত ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, সড়কের কাজ শুরু হলে তাঁদের দোকান ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। স্থানীয় মুদি দোকানদার মোঃ আবু বকর শেখ বলেন, “আমরা অনেক বছর ধরে এখানে বসবাস ও ব্যবসা করছি। সড়ক নির্মাণে যদি আমাদের জায়গা ভাঙতে হয়, তবে ক্ষতিপূরণ ছাড়া মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”

তারা আরও জানান, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও স্লোপ ও অ্যাপ্রোচ সড়ক এখনো অপূর্ণ। তবে এলাকাবাসী আশাবাদী, যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে এ দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি