ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ০০:০১

ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বরিস জনসন। গতকাল ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলের পক্ষ থেকে তাঁকে নেতা নির্বাচিত করার বিষয়টি জানানো হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টকে হারিয়ে দলের নেতা নির্বাচিত হন বরিস জনসন। তিনি ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন। আজ বুধবার বরিস প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। আর বিদায় নেবেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরিস জনসনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

রক্ষণশীল দলের ৯২ হাজার ১৫৩ সদস্যের ভোট পেয়েছেন বরিস জনসন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জেরেমি হান্ট পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৫৬ ভোট। আজ থেরেসা মে বাকিংহাম প্রাসাদে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাত্ করতে যাবেন। এরপর রানি এলিজাবেথ বরিস জনসনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। আজই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বরিস। ফলাফল ঘোষণার পর ৫৫ বছর বয়সী বরিস অঙ্গীকার করে বলেছেন, আমরা ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই ব্রেক্সিট কার্যকর করতে যাচ্ছি এবং এর সকল সুযোগ-সুবিধাও আমরা ভোগ করবো। জনসন বলেন, তাঁর নেতৃত্বের মূল মন্ত্র ছিল ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে অঙ্গীকার, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং বিরোধী নেতা জেরেমি করবিনকে পরাজিত করা। জেরেমি করবিন বলেছেন, বরিস জনসন তাঁর দলের ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, জনগণের ভোটে নয়।

জয়ের আধা ঘন্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রিয় নেতা বরিস জনসনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বরিস ভালো কিছু করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বরিসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তিনি তাঁর সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিসকে সহায়তার করার কথাও জানিয়েছেন। আর বরিসও থেরেসা মেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জেরেমি হান্ট জানিয়েছেন, তিনি হতাশ হলেও বরিসের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আশা করি তিনি দেশের ভাল করবেন।

বরিসের সামনে চ্যালেঞ্জ

লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন জয় পেলেও দলের সিনিয়রদের মধ্যে অনেকেই তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বে কাজ না করার কথা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডও আজ বুধবার পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। ফল ঘোষণার আধা ঘন্টা আগে শিক্ষামন্ত্রী অ্যানে মিল্টন পদত্যাগ করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রীও বিদায় নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। ফলে বরিসকে চাপের মধ্যেই কাজ করতে হবে। সিএনএন জানিয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে হবে। কিন্তু বাস্তবে বরিসের হাতে সময় আছে মাত্র ৩০ দিন। থেরেসা মে যা ৩ বছরে পারেননি তাই বরিসকে ৩০ দিনে শেষ করতে হবে। এমপিরা ছুটিতে যাবেন। এছাড়া তিন সপ্তাহ পার্লামেন্ট বসবে না। কারণ এই সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ছুটি এবং অন্যান্য কারণে বরিস মাত্র ৩০ দিন সময় পাবেন তাঁর অঙ্গীকার করা ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে।

বরিসের জয়ের তাত্পর্য মূলত দুটি। প্রথমত, এর ফলে ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, উভয়কেই সম্ভাব্য ব্রেক্সিট সংক্রান্ত সংঘাতের পথে ঠেলে দেওয়া হলো। দ্বিতীয়ত, দেশে সাংবিধানিক সঙ্কটের আশঙ্কাও ঘনীভূত হলো। যেহেতু ব্রিটেনের এমপিরা প্রতিজ্ঞা করেছেন, যথাযথ ‘বিচ্ছেদ চুক্তি’ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে বেরোনোর চেষ্টা যে সরকারই করুক, তার পতন ঘটাবেন তাঁরা।

বরিসের জীবনের গল্প

বরিস জনসনের জন্ম ১৯৬৪ সালের ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে। ১৯৬৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজের পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকও ছিলেন। দ্য টাইমস ম্যাগাজিনের মাধ্যমে সাংবাদিকতায় তাঁর পেশাজীবন শুরু হয়। যদিও একটি মিথ্যা উদ্ধৃতি প্রদানের জন্য পরে তিনি চাকরি হারান। পরবর্তীতে তিনি ডেইলি টেলিগ্রাফের ব্রাসেলস প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি টেলিগ্রাফের সহকারী সম্পাদক পদে উন্নীত হন। এরপর তিনি টেলিগ্রাফের চাকরি ছেড়ে দ্যা স্পেকটেটর’র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন যা তিনি ২০০৫ সাল পর্যন্ত চালিয়ে যান। তিনি লন্ডনের মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।