নারায়ণগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলা থেকে নারীসহ ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় এক নারী ও দুই পুরুষ, আড়াইহাজার উপজেলায় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং বন্দর উপজেলায় দুই ব্যক্তির মরদেহ পৃথক সময়ে উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে আড়াইহাজার ও বন্দরে হত্যার অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে। নিহতরা হলেন মিশর শিকদার, বারেক মিয়া, শেফালী বেগম, সৈয়ব আহমেদ, সুরুজ মিয়া ও অজ্ঞাত এক যুবক।
বন্দর থানার পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম জানান, মিঠু নামের এক যুবকের কাছে নিহত মিশর ৫০০ টাকা পেতেন। এ কারণে তিনি মিঠুর মোবাইল ফোন রেখে দিয়েছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। এর জের ধরে মিঠুসহ অন্যরা সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাঠমিস্ত্রিদের বাটালি দিয়ে মিশরকে খুঁচিয়ে গুরুতর জখম করে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার নোয়ার্দা এলাকায়। এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় মিশরকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নিহত মিশর সিকদার উপজেলার কাইতাখালী এলাকার মৃত সফিউদ্দিনের ছেলে। নিহতের ভাই সানি থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলার এজাহার নামীয় দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মিঠু, মঞ্জুর হকের ছেলে মুন্না, শাহ্ আলমের ছেলে সাকিব ও আলী হোসেনের ছেলে জিসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজহারুল ইসলাম আরও জানান, উপজেলার বালুর মাঠ এলাকা থেকে বারেক মিয়া নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি পেশায় একজন অটোচালক। একই এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে তিনি। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অপর দিকে, আড়াইহাজার উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সুরুজ মিয়া (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এদিন ভোরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে ফতেপুর ইউনিয়নের বাগদী সিডি মার্কেট এলাকায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা করেছে। নিহতের স্ত্রী চন্দ্রবান বলেন, নানা বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পৃথক স্থান থেকে এক নারী ও দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ফতুল্লার লাল খাঁ থেকে তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর শেফালী বেগম (৪২) নামে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া একই থানা এলাকায় সৈয়ব আহমেদ (১৭) নামে এক তরুণের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) হাসানুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, নিহত শেফালী বেগম একজন মৃগীরোগী। তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে শাক-লতাপাতা তুলে নিয়ে বিক্রি করতেন। গত তিন দিন তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঐ ডোবা থেকে তিনি শাক-লতাপাতা কিছু হয়তো তুলতে নেমেছিলেন আর তখন অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। মঙ্গলবার মরদেহ ভেসে উঠে গন্ধ বের হলে থানায় খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে। তবে সৈয়ব আহমেদের মৃত্যু সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া একই উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি মতিন সড়ক এলাকার বসুন্ধরা কয়েল কারখানার পাশ থেকে একই দিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এইচ এম জসিমউদ্দিন জানান, সকালে স্থানীয়রা রাস্তায় যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। লাশের ডান হাতের বুড়ো আঙুলের নখ উপড়ানো। বাম হাতের কবজির ওপরে ও নিচে দুটি কামড়ের দাগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুবকটিকে অন্য কোথাও হত্যা করে মরদেহটি এখানে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।
