প্রথম শ্রেণির পৌরসভা অভয়নগর, কিন্তু নাগরিক সুবিধা তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভার সমতুল্যও নয়। কারণ যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহালের কারণে সকল প্রকার সুবিধা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী। সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলাচল অনুপযোগী হওয়ায় যানবাহন ও জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাইপাস সড়ক হতে তেঁতুলতলা মসজিদ সড়কটি পৌরসভার কেন্দ্রে অবস্থিত হলেও তা খানাখন্দে ভরা, এমনকি পায়ে হেঁটে পার হতে গেলেও কাপড়ে ময়লা জড়িয়ে যায়। নূরবাগ মাছের আড়তের বিপরীতে বৌ বাজার-হিজবুল্লাহ সড়কটিরও বেহাল দশা। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মদিনা ক্লিনিকের পেছন হতে ২০০ গজ রাস্তাটি এতটাই নিচু যে, একটু বৃষ্টি হলেই তা তলিয়ে যায়, ময়লা ডিঙ্গিয়ে যাতায়াত করতে হয়। নওয়াপাড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের রাস্তা, বালিকা বিদ্যালয়ের রাস্তা এতটাই খানাখন্দে ভরা যে, এই রাস্তা ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের মারাত্মক বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়। অন্যদিকে কাপাশহাটি গ্রামটি যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হলেও এখানে ১০০ গজের একটিমাত্র ভাঙাচোরা ইটের রাস্তা রয়েছে। গ্রামটির অধিকাংশ স্থানেই মাটির কাঁচা রাস্তা বিদ্যমান, নেই কোনো ধরনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা। কাপাশহাটি হতে লক্ষ্মীপুর গ্রামের সংযোগ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে, অথচ রাস্তাটি কাঁচা। এরকম ধোপাদী, পাঁচকবরসহ অন্যান্যস্থানের পীচের রাস্তাগুলো ভেঙে একেবারে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অথচ পৌরসভা কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই, নেই কোনো প্রতিকারের উদ্যোগ।
ক্লিনিকপাড়ার আবুল হোসেন বলেন, আমরা পৌরসভায় বসবাস করি নাকি দূরের কোনো গ্রামে বসবাস করি বুঝতে পারছি না, গ্রামও তো এর থেকে অনেক ভালো, আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। কলেজ রোডের সিদ্দিক বলেন, রাস্তাটি এখন হাত পা ভাঙার ফাঁদ হয়েছে, একটু অমনোযোগী হলেই দুর্ঘটনা নিশ্চিত। নওয়াপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, নওয়াপাড়া পৌরসভার রাস্তাগুলোর দ্রুত সংস্কারের দাবি পৌরবাসীর, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী জানান, বিষয়টি পৌর মেয়রের এক্তিয়ারভুক্ত, আমার কিছু করার নেই। মুঠোফোনে পৌর মেয়র সুশান্ত কুমার দাশ বলেন, দ্রুত সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে, আর কিছু সড়কের কাজ শুরু করা হয়েছে।
