বরগুনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ এবং বেতাগী উপজেলার বাসিন্দা শেফালী বেগম পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান।
এ নিয়ে জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। এছাড়া নতুন করে আরও ৬৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫২২ জন।
ডেঙ্গুতে প্রাণ হারোনো সাইফুলের প্রতিবেশী বাদল মিয়া জানান, কয়েকদিন ধরে সাইফুল জ্বরে ভুগছিলেন। কয়েকদিন আগে কর্মস্থলে কাজ করার তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পাথরঘাটা হাসপাতাল থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় সোমবার ভোরে সাইফুলের মৃত্যু হয়।
এদিকে বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বরগুনা জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বর্তমানে বরগুনা জেলায় মোট ৩ হাজার ৫২২ জন আক্রান্ত রয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। এরমধ্যে শুধুমাত্র পাথরঘাটা উপজেলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনায় ৬৩ জন নতুন করে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
সরকারি হিসাবে বরগুনা জেলায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ছয়জন। তবে বেসরকারি ও বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছর জেলায় অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে, বাকিরা ঢাকা, বরিশালসহ বিভিন্ন বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়ার পথে বা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর চাপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিনিয়ত রোগী আসছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি চিকিৎসা দিতে, তবে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে।
এ বিষয়ে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, দিন যত যাচ্ছে, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ততই বাড়ছে। কিছুতেই তা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এরইমধ্যে আমাদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
