পর্যটন শহর রাঙামাটি যেন ‘ময়লার ভাগাড়’

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৫, ১৬:১৫

রাঙামাটিকে পর্যটন শহর বলে আখ্যা দেওয়া হয়। তৎকালীন সরকার এ জেলাকে পর্যটন শহর ঘোষণা করেছিলো। সারাবছর এ অঞ্চলে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। তবে পর্যটনবান্ধব এ শহরে আগত পর্যটকদের প্রবেশের শুরুতে স্বাগত জানায় রাঙামাটি পৌরসভার ‘ময়লার ভাগাড়’।

জেলা শহরের বেতার এলাকার মূল সড়কের পাশে রাঙামাটি পৌরসভার এই ময়লার ভাগাড়টি অবস্থিত। প্রতিদিন ময়লার ভাগাড়ের গন্ধে পথযাত্রী থেকে শুরু করে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে স্থানীয়দেরও। পরিকল্পনাবিহীন ময়লার ভাগাড়ের গন্ধে রাঙামাটিতে আগত ভ্রষণ পিপাসুরা চরম অস্বস্থিতে পড়ে বিরক্তি প্রকাশ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো শহর এবং হাসপাতালের বর্জ্য এই স্থানে ফেলা হচ্ছে। এসব বর্জ্য বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে কাপ্তাই হ্রদে
এসে পড়ে হ্রদের পানিকে দুষণ করছে এবং মৎস্য সম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত
দুষিত হচ্ছে বাতাস, দূষণ হচ্ছে পরিবেশ। বাতাস ও পানির মাধ্যমে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে জীব-বৈচিত্র।
এছাড়াও ভাগাড়ের ময়লা পাহাড়ি ছড়ার পানির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় উলুছড়া গ্রাম এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত স্থানীয়রা
পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

বেতার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাকিব হাসান বলেন, ময়লার ভাগাড়ের পাশে আমাদের বাড়ি। এখানে বসবাস করা সত্যিই কষ্টের। ময়লার ভাগাড়ের গন্ধে স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করে বাচ্চারা। আমাদের দাবি মূল সড়ক থেকে যেন ময়লার ভাগড়াটি সরিয়ে ফেলা হয়।

রাঙামাটি জেলা শহরের মো. নুরুল আবছার বলেন, হাসপাতালেরর বর্জ্যসহ শহরের সকল ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হচ্ছে। যে কারণে ভয়াবহভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পর্যটন বান্ধব এ শহরে প্রশাসনের উচিত পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে এবং জীব-বৈচিত্র রক্ষায় একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।

পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা ও পাহাড়ের বিশিষ্ট কলাম লেখক শাওন ফরিদ বলেন, রাঙামাটি পৌরসভার ‘আবর্জনাই সম্পদ’ এখন রাঙামাটিবাসীর জন্য বিষফোঁড়া। বিশেষত ভেদভেদি, উলুছড়া আরণ্যক এলাকার আশেপাশের মানুষের গলার কাটা। ময়লার ভাগাড়টির কারণে কাপ্তাই হ্রদের দূষণ হচ্ছে, ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। ভূমিধ্বসের পরবর্তীতে ২০১৭ সালের পৌরসভার মেয়র বরাবরে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিলো যাতে ময়লা আবর্জনা বৃষ্টির জলে, ধানি জমি ও লেকের জলে না আসে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, অদ্যবধি এ সমস্যা সমাধানের কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক বলেন, পর্যটন বান্ধব রাঙামাটি শহরের সৌন্দর্য বিনষ্ট করছে এই ময়লার
ভাগাড়টি। শুধু সৌন্দর্য বিনষ্ট করছে তাই নয়; পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি করছে। কেননা ময়লাগুলো বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে কাপ্তাই হ্রদে গিয়ে পড়ছে। যে কারণে মৎস্য সম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে এবং হ্রদের পানি দূষিত হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি অতিদ্রুত ময়লার ভাগাড়টি এখান থেকে সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করে।

রাঙামাটি পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, আমরা আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলতে একটি জায়গার
সন্ধান করছি। এ ব্যাপারে পৌরসভার মাসিক উন্নয়ন সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ সমস্যাটির
সমাধান করা হবে।

ইত্তেফাক/এনটিএম