হাসপাতালে নেওয়ার নৌকা পেতে ১০ ঘণ্টা, পথেই মারা গেল অসুস্থ কিশোর

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৫, ১৯:৫৫

চট্টগ্রাম সন্দ্বীপ উপজেলার ১২ বছরের এক কিশোর এক সপ্তাহ ধরে ভুগছিল জ্বরসহ শারীরিক নানা জটিলতায়। উপজেলায় আর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না, তাই তাকে নগরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন চিকিৎসক। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় মিলছিল না নৌযান। ওই কিশোরকে নিয়ে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নৌযানের আশায় ঘাটে অপেক্ষা করেন পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে সাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার জন্য মেলে ছোট একটি নৌকা। সেই নৌকাতেই মৃত্যু হয় ওই কিশোরের।

মারা যাওয়া কিশোরের নাম আবদুর রহমান। সে উপজেলার কালাপানিয়া ইউনিয়নের মো. মানিকের ছেলে। সোমবার (৭ জুলাই) রাতে তার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকালে লাশ নিয়ে এলাকায় ফেরে তার পরিবার।

আবদুর রহমানের ফুফাতো ভাই এ আর সোহেল জানান, অসুস্থ হয়ে পড়ার পর শুরুতে আবদুর রহমানকে সন্দ্বীপের বেসরকারি স্বর্ণদ্বীপ ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার সকালে তাকে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে চিকিৎসক আবদুর রহমানকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

এ আর সোহেল বলেন, ‘সোমবার দুপুর ১২টার পর থেকে আমরা ঘাটে বোটের অপেক্ষায় ছিলাম। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় দীর্ঘ সময় কোনো বোট পাইনি। এ সময়ের মধ্যে আবদুর রহমানের অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। অবশেষে রাত ১০টা নাগাদ আমরা একটি লাল বোটের (উপকূলে যাত্রী নামানোর ছোট নৌকা) ব্যবস্থা করতে সক্ষম হই। ঝুঁকি নিয়ে সেটিতেই সীতাকুণ্ডের উদ্দেশে রওনা দিতে হয়েছে।’

সন্দ্বীপের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় দুর্যোগের মধ্যে ছোট নৌকায় সাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নিতে হয়েছে বলে জানান আবদুর রহমানের আরেক ফুফাতো ভাই ইকরাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘উত্তাল সমুদ্রে আমাদের বোট উল্টে যাওয়ার মতো অবস্থা, সে সময় আমরা টের পাই আবদুর রহমান আর বেঁচে নেই। ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে ঢেউয়ের প্রচণ্ড গর্জনেও আমরা হাল ছাড়িনি। নিজেদের মনকে সান্ত্বনা দিতে আবদুর রহমানকে সীতাকুণ্ডের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসক জানান, আগেই আবদুর রহমানের প্রাণ চলে গেছে’।

আবদুর রহমানদের প্রতিবেশী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘জরুরি মুহূর্তে রোগী পারাপারের ক্ষেত্রে এই ধরনের চিত্র এবারই প্রথম নয়। প্রায়শই এমন ভোগান্তি আর করুণ পরিণতির মুখে পড়ে মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, লোকবল ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে এমন দুর্ভোগ ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’

সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস বলেন, ‘১২ বছরের ওই কিশোরের মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে একজন উপজেলা সার্জনের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু এই ধরনের পোস্ট আমাদের নেই। তবে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েই তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছি।’

ইত্তেফাক/এসএ