মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’ (আরসা)-র প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন কক্সবাজারের একটি আদালত।
বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাফ উদ্দিন আসিফ উখিয়ায় ২০২০ সালের একটি চার রোহিঙ্গা খুনের মামলায় রিমান্ড শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত তিন দিনের অনুমতি দেন।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. গোলাম জিলানী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি বর্তমানে সিআইডির তদন্তাধীন।
এর আগে সকালে আতাউল্লাহকে প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে দুপুর ২টার দিকে তাকে আবার কক্সবাজার জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. জসিম উদ্দিন জানান, বুধবার বিকেল থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হবে। তদন্ত শেষ হলে বাকি মামলাগুলোতেও নতুন রিমান্ড আবেদন করা হবে। আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়িতে চারটি হত্যা মামলা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে চারজন রোহিঙ্গা নিহত হন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আতাউল্লাহ।
চলতি বছরের ১৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহে অভিযান চালিয়ে আতাউল্লাহসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে প্রথম দফায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর বান্দরবানসহ বিভিন্ন মামলায়ও রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
২০১৮ সাল থেকে উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার করে আরসা। তাদের প্রতিরোধে নামে আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরআরএসও)। এ সময় মুহিবুল্লাহ হত্যাসহ একাধিক রক্তাক্ত ঘটনার সঙ্গে জড়ায় আতাউল্লাহর নেতৃত্বাধীন গ্রুপ। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা এবং একই বছরের অক্টোবরে ছয় রোহিঙ্গা হত্যা মামলায়ও তার নাম রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২২ সালের নভেম্বরে বান্দরবানে মাদকবিরোধী অভিযানে ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার রিজওয়ান রুশদী নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামিও আতাউল্লাহ।
সীমান্ত ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানায়, আতাউল্লাহর জন্ম পাকিস্তানের করাচিতে, তার পিতামাতার শেকড় মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু টাউনশিপে। তিনি সৌদি আরবের মক্কায় পড়াশোনা করেছেন। পরে আরসা গঠন করে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন।
