আশুলিয়ার শ্রীপুরে অবস্থিত দারুল ইহসান ট্রাস্টের সম্পত্তি দ্রুত বৈধ ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ট্রাস্টিরা। ট্রাস্টের মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের বৈধ দাবি করা ট্রাস্টি বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক ও দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ওসমান গনি বলেন, আদালতের রায়ে তাদের ট্রাস্টি বোর্ড বৈধ হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে এ বোর্ডের ২১ জন সদস্য রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধ দখলদারদের হাতে জিম্মি হয়ে আছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওসমান গনি আরও বলেন, আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তারা সুবিচার পাননি। এখন সময় এসেছে, প্রশাসনের সহায়তায় অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে ট্রাস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বৈধ কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার।
শিক্ষানুরাগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আশরাফ ১৯৮৬ সালে দারুল ইহসান ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২১ বিঘা জমি দান করে পরবর্তীতে আরও জমি ক্রয় করে মোট ৩৫ বিঘা সম্পত্তির ভিত্তি গড়ে তোলেন। ১৯৮৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এ ট্রাস্টের অধীনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেন।
২০০৬ সালে সৈয়দ আলী নকী জয়েনস্টক কোম্পানিতে নতুন ট্রাস্ট গঠন করে ১১ সদস্য নিয়ে পৃথক গ্রুপ পরিচালনা শুরু করেন, যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। একের পর এক মামলা, বিবাদ এবং ব্যর্থ সমঝোতার পরে ২০১৬ সালে উচ্চ আদালত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধের রায় দেয়, এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে।
২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর ওসমান গনির নেতৃত্বে সৈয়দ আলী নকী গ্রুপ উচ্চ আদালতে রিট করে এবং তাদের দাবি, আদালতের রায়ে ট্রাস্টের বৈধতা ও কার্যক্রম সচল রাখার অনুমতি পেয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ট্রাস্টি সদস্যরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে ট্রাস্ট ও এর সম্পত্তি দ্রুত বৈধ বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করা হোক। তাদের দাবি, উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী এখন আর বিলম্ব না করে দারুল ইহসানের শিক্ষা, দাতব্য ও ধর্মীয় কার্যক্রম পুনরায় চালুর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
