নক্ষত্রের জন্মদিনে শুভেচ্ছা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ১৯:৪১

১৯৫৪ সালের ৩০ জুলাই বাবার কর্মস্থল তত্কালীন পূর্বপাকিস্তানের বাগেরহাটে জন্মেছিলেন ঢাকার চলচ্চিত্রের সত্তর ও আশির দশকের বিশিষ্ট অভিনেত্রী ববিতা। পঞ্জিকার হিসাবে চলতি বছর তিনি জীবনের পঁয়ষট্টি বছর পার করলেন। শুভ জন্মদিন। ১৯৬৯ সালে জহির রায়হানের প্রযোজনায় ‘শেষ পর্যন্ত’ ছবিতে নায়ক রাজ্জাকের বিপরীতে ববিতা প্রথম নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। চলতি বছর ববিতার নায়িকা জীবনেরও সুবর্ণজয়ন্তী। ১৯৭০ সালে নজরুল ইসলামের ‘স্বরলিপি’ ছবিতে ববিতার অভিনয় তাঁকে ঢাকার চলচ্চিত্রে একক নায়িকা হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার রসদ জোগায়। ততদিনে শবনম, কবরী, সুজাতা ও শাবানা ঢাকার চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে দর্শক ও নির্মাতাদের কাছে নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত। ববিতার ক্যারিয়ারের শুরু বলা যায় স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই। সুভাষ দত্ত, খান আতা, আলমগীর কবীর, নারায়ণ ঘোষ মিতা, মহসিন, আমজাদ হোসেন, শেখ নিয়ামত আলী, কবীর আনোয়ার প্রমুখ জীবনধর্মী ও বক্তব্যপ্রধান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ছবিতে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি তাঁকে সত্তর দশকে চলচ্চিত্রশিল্পের একজন অপরিহার্য নায়িকা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। পাশাপাশি কাজী জহির, দিলীপ বিশ্বাস, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, জহিরুল হক, এ জে মিন্টু, ইবনে মিজান, অশোক ঘোষ, আজিজুর রহমান বুলির মতো বাণিজ্যসফল ছবির নির্মাতাদের ছবিতে ববিতা তাঁর চাহিদা প্রমাণেও সক্ষম হয়েছিলেন। সত্তর ও মধ্য আশি পর্যন্ত নির্মিত বাণিজ্যিক ঘরানার বক্তব্যধর্মী, ব্যবসাসফল ছবিতে তাঁর সাবলীল অভিনয়, নাচ-গান ও পর্দা উপস্থিতি ওই সময়ের সুপ্রতিষ্ঠিত শাবানা ও কবরীর পাশে তাঁর নায়িকা জীবনের চাহিদা ও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। 

এই এক দশকে ববিতা বারবার তাঁর শিল্পী সত্তাকে অভিনয়ের কষ্টিপাথরে যেমন যাচাই করে সফল হয়েছিলেন, পাশাপাশি বক্তব্যপ্রধান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সুদৃষ্টি তাঁর ক্যারিয়ারকে বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি শিল্প ও বক্তব্যধর্মী ছবিতেও প্রসারিত করেছিল। এই এক দশকে তাঁর সবচেয়ে সুঅভিনীত ছবি ও চরিত্র কোনটি? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, সত্তর দশকে ববিতার সমসাময়িক শিল্পী একমাত্র কবরী বক্তব্যধর্মী ও শিল্পাশ্রয়ী চলচ্চিত্রে কিছুটা কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন—‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘লালন ফকির’, ‘সুজন সখী’ ছবিসমূহে। পাশাপাশি ববিতা ওই সময়ে নির্মিত প্রায় সবক’টি বক্তব্যধর্মী ছবির নায়িকা হতে পেরেছিলেন। কিভাবে সম্ভব হয়েছিল ব্যাপারটি? ১৯৭০ সালে জহির রায়হানের অসমাপ্ত ছবি ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ ছবিতে বাংলা চলচ্চিত্রের ব্যাকরণধর্মী অভিনয় ববিতা শিখেছিলেন তাঁর দুলাভাই জহির রায়হানের কাছে। স্বাধীনতার পরে খান আতা, আলমগীর কবীর, সুভাষ দত্ত, আব্দুস সামাদ, মিতা, আমজাদ হোসেন প্রমুখ প্রতিভাবান নির্মাতাদের ছবিতে ববিতা অভিনয়ের বিশেষ রীতি ও বৈশিষ্ট্য অনুধাবন ও আত্মস্থ করেছিলেন। বর্তমান প্রজন্ম অভিনয়শিল্পে ববিতার মতো এই রকম একজন মেধাবী, দক্ষ ও কুশলী তারকা শিল্পীর অভিনয়জীবন ও ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি ও অর্জনের পরিশ্রমলব্ধ অভিজ্ঞতার কথা কতটুকু জানেন? এক্ষেত্রে নায়িকা ববিতা তাঁর নিজের আত্মজীবনী লিখে উত্তর প্রজন্মকে নিজের প্রাপ্তি ও অর্জন সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে আকাশ সংস্কৃতি ও বিনা শুল্কে পাওয়া প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত আজকের তারুণ্য ববিতাকে একজন সুঅভিনেত্রী হিসেবে আগামীতেও মূল্যায়ন করবে—সকলের সঙ্গে এই প্রত্যাশা আমাদেরও।

লেখক  চলচ্চিত্র গবেষক ও নির্মাতা