দ্য নাইটিঙ্গেল গার্ল

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ১৯:৪২

‘দ্য নাইটিঙ্গেল’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে আগামী সপ্তাহে। মুক্তির আগেই দর্শকদের ব্যাপকভাবে আগ্রহী করে তুলেছে অস্ট্রেলিয়ান পিরিয়ড থ্রিলার সিনেমাটি। ১৮২৫ সালের পটভূমিতে নির্মিত এ ছবির গল্পে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া অঞ্চলে এক তরুণী গৃহবধূর স্বামী ও সন্তান হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের ব্যাপারটি তুলে ধরা হয়েছে। ক্লায়ার নামের তরুণীটি নিজের চোখের সামনে তার স্বামী এবং শিশু সন্তানকে নির্মমভাবে খুন হতে দেখে। হত্যাকারী ব্রিটিশ অফিসার হকিংস এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের নির্মমতার প্রতিশোধ নিতে ক্লায়ার উঠেপড়ে লাগে। সেই গল্প তুলে ধরা হয়েছে ‘দ্য নাইটিঙ্গেল’ ছবিতে। এ ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্র ক্লায়ারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ২৬ বছর বয়সী আইরিশ ইতালিয়ান অভিনেত্রী আশলিং ফ্রান্সিওসি। দর্শক তাঁকে আরো আগে থেকে চেনে বিবিসির দুই আলোচিত ক্রাইম ড্রামা টেলিভিশন সিরিজ ‘দ্য ফল’ ও ‘লিজেন্ডস’-এর মূল নায়িকা চরিত্রে রূপদানের কারণে। ‘গেমস অব থ্রোনস’ সিরিজের দুটি এপিসোডে দর্শক তাঁকে দেখেছেন লায়ানা স্টার্ক চরিত্রে। ফ্রান্সিওসির জন্ম ইতালিতে। তবে বেড়ে উঠেছেন আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে। ইতালিয়ান বাবা ও আইরিশ মায়ের ঘরে তৃতীয় সন্তান অ্যাশলিং ফ্রান্সিওসি ইংরেজি এবং ইতালিয়ান দু ভাষাতেই অনর্গল কথা বলতে পারেন। ডাবলিনের ট্রিনটি কলেজে ফরাসি ও স্প্যানিশ ভাষা অধ্যয়ন করেছেন তিনি। ছোট পর্দা দিয়ে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু হলেও এখন বড় পর্দাতেও নিজেকে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য ও ব্যস্ত করে তুলতে চাইছেন। ছোট পর্দায় এ পর্যন্ত ফ্রান্সিওসিকে দেখা গেছে বেশ অনেকগুলো সিরিজে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘দ্য ফল’, ‘কুইক’, ‘ভেরা’, ‘লিজেন্ডস’, ‘গেম অব থ্রোনস’, ‘ক্লিক’ প্রভৃতি। এর মধ্যে ‘দ্য ফল’ সিরিজের অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর আইরিশ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন ২০১৫ সালে। সিনেমায় অভিনয় শুরু করেছেন পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালে। ‘জিমিস হল’ ছবিতে মেরি চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। একই বছর তাঁকে দেখা গেছে ইউরোপিয়ান স্পেস অ্যাজেন্সি মিশন রোসেটাকে কেন্দ্র করে নির্মিত স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি ‘অ্যামবিশন’-এ। এরপর ২০১৬-তে আবার অভিনয় করে একই বিষয়বস্তু নিয়ে নির্মিত ‘অ্যামবিশন ইপিলগ’-এ। দুটোতেই তাঁর উপস্থিতি সবার নজর কেড়েছে। তবে হালে ‘দ্য নাইটিঙ্গেল’ ছবির সুবাদে লাইমলাইটে চলে আসার সুযোগ পেয়েছেন অ্যাশলিং ফ্রান্সিওসি। এ ছবির ক্লায়ার চরিত্রটি তাঁর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল। মনপ্রাণ উজাড় করে অভিনীত চরিত্রের মধ্যে নিজেকে নিমজ্জিত করেছিলেন এই অভিনেত্রী। ‘দ্য নাইটিঙ্গেল’ ফ্রান্সিওসিকে খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার নতুন উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করবে ধারণা করা যায়। হলিউডে তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এর মাধ্যমে। অ্যাশলিং ফ্রান্সিওসি নিজের ভবিষ্যত্ নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। ‘আমি পরিশ্রম করতে দ্বিধা করি না, যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। ‘দ্য নাইটিঙ্গেল’ ছবিটি আমার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি আমার কাজের পুরস্কার পাব, দর্শক-সমালোচক আমার কাজের মূল্যায়ন করবেন, আমার আত্মবিশ্বাস রয়েছে পুরোপুরিভাবে।’ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে এ কথাগুলো বলেছেন এই আইরিশ-ইতালিয়ান অভিনেত্রী।