নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তিন শিক্ষার্থীর ওপর চৌমুহনী এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিমেষ দেবনাথ অজ্ঞাতনামা ৭–৮ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন। হামলায় আহত অন্য দুজন হলেন সৌমেন বড়ুয়া ও কাজী সাওদাজ জামান। তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
হামলার প্রতিবাদে রোববার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ডাক দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিকেল সাড়ে ৩টায় নোয়াখালীর চৌরাস্তা এলাকায় এক প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসে করে নোয়াখালী ফেরার পথে শনিবার দুপুরে চৌমুহনীর আমীরুল মিল্লাত মাদরাসার সামনে পৌঁছালে হঠাৎ পেছন থেকে একদল দুর্বৃত্ত বাস থামিয়ে তাদের জোরপূর্বক নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে। হামলার কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো হুমকি দেয়, ‘সিনিয়রদের ডাকলে লাশ খুঁজে পাওয়া যাবে না।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বারবার স্থানীয়দের হাতে হামলার শিকার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘দুই দিন পরপর এমন হামলা উদ্বেগজনক। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসন শুধু আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই।’ আরেক শিক্ষার্থী আল মাহমুদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর এভাবে হামলা অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আমরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি।’
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এএফএম আরিফুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘাতে আমরা আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থী মাহবুবকে হারিয়েছি। আবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো দুঃখজনক। কেন স্থানীয়রা এমন আচরণ করছে তা বোধগম্য নয়। আমরা দ্রুত বিচার চাই।’

