শ্রাবণের সন্ধ্যায় গানের সুর আর কবিতার ছন্দে উদ্ভাসিত হলো সৌন্দর্য ছড়ানো বর্ষার প্রতিচ্ছবি। সঙ্গে ছিল নান্দনিক নৃত্য পরিবেশনা। গত ২০ জুলাই চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘বর্ষা বন্দনা’। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তচিন্তার জবাবদিহিমূলক সংগঠন ‘আমরা করবো জয়’। পুরো আয়োজনটি উত্সর্গ করা হয় সদ্যপ্রয়াত নাট্যজন-শিল্পী শান্তুনু বিশ্বাসকে।
এ আয়োজনে একক আবৃত্তিতে অংশ নেন ভারতের আবৃত্তিশিল্পী ও গবেষক ডালিয়া বসু সাহা, গানে অংশ নেন কণ্ঠশিল্পী শ্রেয়সী রায়, নৃত্যে খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী প্রমা অবন্তী ও ওডিসি অ্যান্ড টেগোর ড্যান্স মুভমেন্ট সেন্টারের শিল্পীরা। এছাড়া বর্ষা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিরা। সেইসঙ্গে কবি কণ্ঠে কবিতা পাঠে অংশ নেন আমন্ত্রিত কবিরা। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ভারতের খ্যাতিমান আবৃত্তিশিল্পী ডালিয়া বসু সাহার কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের লিপিকা কাব্যগ্রন্থের ‘মেঘ কাহিনি’ কবিতা আবৃত্তি দিয়ে। এরপর বনানী মুখোপাধ্যায়ের ‘টাপুর টুপুর’, মেঘ বালিকার রূপকথা, শুভ দাশগুপ্তের ‘মেঘ বললো’ পরিবেশন করা হয়। এছাড়া হূদয় হরণ করা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মা’ কবিতাটি আবৃত্তিতে মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে।
কণ্ঠশিল্পী শ্রেয়সী রায় শুরুটা করেন সদ্যপ্রয়াত নাট্যজন শান্তুনু বিশ্বাসকে স্মরণ করে পরিবেশন করেন ‘বড় বেদনার মতো বেজেছো তুমি হে আমার প্রাণে’। এরপর তিনি রবীন্দ্রনাথের বেশকিছু বর্ষার গান পরিবেশন করেন। আমি কী গান গাব যে, শাওন গগনে, এ কি গভীর বাণী, তিমির অবগুণ্ঠনে ও আমি তখন ছিলাম মগন গহন গানগুলো ছিল অন্যতম। এরপর নৃত্যশিল্পী প্রমা অবন্তী ও ওডিসি অ্যান্ড টেগোর ড্যান্স মুভমেন্ট সেন্টারের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। পুরো অনুষ্ঠানে গানের সুর আর নাচের মুদ্রায় বর্ষা মূর্ত হয়ে ওঠে সমগ্র মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান আবৃত্তিশিল্পী অ্যাডভোকেট মিলি চৌধুরীর সঞ্চালনায় সূচনা বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাংবাদিক শওকত বাঙালি। অনুষ্ঠানের মাঝে মাঝে বর্ষাকথনে অংশ নেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. মো. ইসমাইল খান, সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, পারভেজ মান্নান ও শরফুদ্দিন চৌধুরী রাজু। এছাড়া কবি কণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি সাথী দাশ।
