সাত কিলোমিটার ধাওয়া করে দুই ছিনতাইকারী আটক

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৫, ১৬:৫১

জয়পুরহাটে দুই লাখ টাকা ছিনতাই করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পালানোর চেষ্টা করেছিল দুই দুর্বৃত্ত। তবে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের তৎপরতায় সাত কিলোমিটার ধাওয়া শেষে ধরা পড়ে তারা। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মাটিঘর এলাকায়। ছিনতাইয়ের শিকার মাহফুজ ইসলাম জয়পুরহাট সদরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। ওই দিন দুপুরে তিনি ব্যাংকে ৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা জমা দিতে যান। এর মধ্যে ৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা জমা দিয়ে বাকি দুই লাখ টাকা নিয়ে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন।

ইসলামী ব্যাংকের জয়পুরহাট শাখার সামনে পৌঁছালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তার সামনে দাঁড়ায়। অটোরিকশার চালক বিদেশি মুদ্রা ভাঙানো নিয়ে জানতে চাইলে সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি নেমে আসে চাকু হাতে। ভয় দেখিয়ে মাহফুজের কাছে থাকা দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত অটোরিকশা চালিয়ে পালিয়ে যায়।

মাহফুজের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তিনি পুলিশকে খবর দিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে ছিনতাইকারীদের পিছু নেন। এক পর্যায়ে সাত কিলোমিটার ধাওয়া দিয়ে জয়পুরহাট-মোকামতলা সড়কের মাটিঘর এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অটোরিকশাটিকে থামানো হয়।

পরে ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং অটোরিকশাটি জব্দ করে ক্ষেতলাল থানায় নেওয়া হয়। ধৃতরা হলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার উকিলপাড়ার শাকিল হোসেন (৩৯) এবং গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সাজু মিয়া (৪০)।

ক্ষেতলাল থানার এসআই কোরবান আলী জানান, ধৃতদের কাছ থেকে ওমানের মুদ্রাও পাওয়া গেছে। তাঁদের জয়পুরহাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল কাদের বলেন, মাহফুজ ইসলাম গতকাল রাতেই থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের আজ আদালতে পাঠানো হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী ইমরান হোসেন বলেন, “সিনেমার মতো লাগছিল—ছিনতাইকারীরা ছুটছে সিএনজিতে, আর পেছনে মোটরসাইকেলে ছুটছে লোকজন।”

ইত্তেফাক/আইএ