ওয়ানডে ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাবেন আগামীকালই। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে শেষ হওয়ার পরই আর লাসিথ মালিঙ্গা ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলবেন না। শুধু তাই নয়, দেশ ছেড়ে তিনি চলে যাবেন অস্ট্রেলিয়ায়। স্থায়ীভাবে থাকবেন সেখানেই। যদিও টি-টোয়েন্টি খেলাটা সহসাই বন্ধ করছেন না এই স্পিডস্টার। জানিয়েছেন, ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা অন্তত খেলতে চান তিনি। তিনি বলেন, ‘আশা রাখি আমি আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটায় শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলতে পারবো। আমি মনে করি, এই সুযোগটা আমার পাওয়া উচিত। যদি সুযোগ না পাই তাহলেও অবশ্য কোনো কষ্ট থাকবে না।’
শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হয়েই ইতি টানছেন মালিঙ্গা। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসেও অবশ্য তিনি আছেন ১০ নম্বরে। এখন মালিঙ্গার উইকেট ৩৩৫টি। ৩৩৭টি উইকেট নিয়ে ৯ নম্বরে আছেন সাবেক ভারতীয় স্পিনার অনিল কুম্বলে। ফলে শুক্রবার চাইলে কুম্বলেকে ছাড়িয়েও যেতে পারেন তিনি। মালিঙ্গা পাঁচ উইকেট পেয়েছেন ৮ বার, চার উইকেট পেয়েছেন ১১ বার। যদিও আর একটি উইকেট পেলেই আরেকটি রেকর্ড গড়ে ফেলতে পারেন তিনি। তিনি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ৫০টি উইকেট পাওয়ার কীর্তি গড়ার থেকে মাত্র এক উইকেট দূরে দাঁড়িয়ে আছেন।
মালিঙ্গার এই হঠাত্ বিদায় শ্রীলঙ্কার বোলিংকে ভালোই বিপদে পড়তে পারে বলে মনে করছেন দ্বিমুথ করুনারত্নে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো একজন উইকেট-টেকিং বোলার খুঁজে বের করা। এমন একজন বোলার দরকার যে কি না ইনিংসের শুরুতে উইকেট পাবে, ইনিংসের মাঝে ব্রেক থ্রু পাবে।’
২০০৪ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পর থেকে ১৫ বছর মালিঙ্গা লঙ্কান ক্রিকেটকে সেবা দিয়ে গেছেন। সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১০ সালের আগস্টে। এবার ৫০ ওভারের ক্রিকেট থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। মালিঙ্গা আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা বোলারদের একজন। যদিও ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারকে বড়ো একটা সময় ইনজুরি আর ফিটনেসের ইস্যু নিয়েই লড়াই করতে হয়েছে। যদিও এই বয়সে এসেও যে নিজের দিনে মালিঙ্গাই সেরা সেটার প্রমাণ বিশ্বকাপের মঞ্চেই পাওয়া গেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ৪৩ রানে চার উইকেট নিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। তবে এর সবকিছুই এখন অতীত হয়ে যাওয়ার পথে।
