কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কৃষি মূল্য কমিশন গঠনের দাবি খানি’র

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫, ০৩:৫০

দেশের কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং কৃষি খাতকে টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও কার্যকর কৃষি মূল্য কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক–খানি বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) খানি এবং পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক–প্রাণ আয়োজিত “কৃষকদের সুরক্ষা: কেন একটি কৃষি মূল্য কমিশন প্রয়োজন” শীর্ষক মিডিয়া ক্যাফেতে এই দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান।

খানির পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান ও গবেষণার ভিত্তিতে কৃষকদের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয় এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য সুস্পষ্ট সুপারিশমালা পেশ করা হয়। আলোচনায় বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ, তামাক ও ওষুধ খাতে যেখানে মূল্য নির্ধারণের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো রয়েছে, সেখানে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি খাত এখনও এমন কোনো সুরক্ষা পায়নি। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা তাদের জীবনকে সংকটাপন্ন করে তুলছে।

বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে মেহেরপুরের পেঁয়াজচাষি সাইফুল শেখ এবং রাজশাহীর মীর রুহুল আমিনসহ একাধিক কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাকে এই সংকটের ভয়াবহ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথি ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, “কৃষিখাতে বড় চ্যালেঞ্জ তথ্য ও পরিসংখ্যান। বহু বছর ধরে এখানে ডেটা ম্যানিপুলেশনের সংস্কৃতি চলে আসছে। সঠিক পরিসংখ্যান কৃষকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।” তিনি আরও জানান, সরকার কৃষিতে ৬টি হটস্পট চিহ্নিত করে ৯টি থিম্যাটিক এরিয়ায় কাজ শুরু করেছে এবং ২৫ বছরের একটি কৃষি পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন।

অতিরিক্ত সচিব ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, “ভারতের মতো আমরাও ন্যূনতম সমর্থনমূল্য (MSP) বিবেচনা করছি। তবে পচনশীল পণ্যে বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষ কৌশল প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এবং ধান-চালের দাম নির্ধারণে সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।”

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, “কৃষি মূল্য কমিশন নিয়ে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই, কিন্তু কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।” তিনি স্থানীয় উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নপর্যায়ে সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন: সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক, কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মিহির কুমার রায়, সাবেক মহাব্যবস্থাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নীলর্মী, খানি সহ-সভাপতি রেজাউল করিম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম মাসুদ।

সবশেষে বক্তারা বলেন, কৃষি মূল্য কমিশন গঠনের মাধ্যমে শুধু কৃষকের আত্মহত্যাই রোধ করা যাবে না, বরং দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেও জাতীয় উন্নয়নে বড় অবদান রাখা যাবে।

ইত্তেফাক/এএম