দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘনে রাশিয়ার ‘দুঃখ প্রকাশ’

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৯, ২১:১৭

দক্ষিণ কোরিয়ার আঞ্চলিক আকাশসীমায় রাশিয়ার অনধিকার প্রবেশ উদ্দেশ্যমূলক ছিল না বলে জানিয়েছেন সিউল। বুধবার দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এই ঘটনায় রাশিয়ার এক সামরিক কর্মকর্তা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সিউলের দাবি, এই ঘটনার জন্য প্রযুক্তিগত ত্রুটিকে দায়ী করেছে রাশিয়া। তবে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে কিছুই জানায়নি মস্কো। এদিকে এই ঘটনায় রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া দুই দেশের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছে টোকিও।

বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কর্মকর্তা ইয়োন দো-হান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মস্কোর তরফে সিউলকে জানানো হয়েছে আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় খুব দ্রুত  তদন্ত শুরু করবে রাশিয়া। এছাড়া এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। ঐ কর্মকর্তা বলেন রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ওই অনধিকার প্রবেশ উদ্দেশ্যমূলক ছিল বলে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেন, এই ঘটনার পরও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখবে রাশিয়া।

মঙ্গলবার চীনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো যৌথ বিমান টহল চালানোর কথা জানায় রাশিয়া। জাপান সাগর ও পূর্ব চীন সাগরের পূর্ব পরিকল্পিত একটি রুটে চারটি বোমারু বিমানের টহলে সহায়তা দেয় রুশ যুদ্ধবিমান। দক্ষিণ কোরিয়া দাবি করে বিতর্কিত দোকদো/তাকেশিমা দ্বীপের আকাশে অনধিকার প্রবেশ করে রুশ বিমান। দক্ষিণ কোরিয়ার দখলকৃত এই অঞ্চলটির কর্তৃত্ব জাপানও দাবি করে থাকে। সিউল দাবি করে, মঙ্গলবার সকালে একটি রুশ যুদ্ধবিমান দুইবার তাদের আঞ্চলিক আকাশসীমা লঙ্ঘন করে। তাদের গতিরোধ করতে দক্ষিণ কোরিয়ার এফ-১৫ ও এফ-১৬ বিমান মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনীর তরফে দাবি করা হয়েছে, অনধিকার প্রবেশের সময় দশটি অগ্নিতরঙ্গ ও মেশিনগানের ৮০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। রাশিয়ার একটি এ-৫০ বিমান আকাশসীমা ত্যাগ করে আবারো প্রবেশ করলে আরো দশটি অগ্নিতরঙ্গ ও ২৮০ রাউন্ড মেশিনগানের গুলির মুখে পড়ে বলে দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী।

এদিকে এই ঘটনায় রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া দুই দেশের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছে টোকিও। দোকদো/তাকেশিমা দ্বীপের ওপর নিজের সার্বভৌমত্ব দাবি করায় জাপান সরকার বলছে, রাশিয়া তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিক্রিয়াও চরম নিন্দাজনক বলেও জানিয়েছে টোকিও।