হংকং ম্যাচের আগে

ক্লাব দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চায় বাফুফে

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫, ১৭:৫৪

এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রেখে জাতীয় দলের প্রস্তুতিতে বাড়তি ধার আনতে চায় বাফুফে। আগামী ৯ ও ১৪ অক্টোবর শক্তিশালী হংকংয়ের বিপক্ষে হোম-অ্যাওয়ে দুই ম্যাচের আগে আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঝালিয়ে নিতে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে তারা। তবে সমস্যা একটাই ওই সময়টা ফিফা উইন্ডোর বাইরে। ফলে কোনো দেশের জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। তাই বিকল্প পথে হাঁটছে বাফুফে। এখন তারা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চায় এশিয়ার সেরা কয়েকটি দেশের শীর্ষ ক্লাব দলের বিপক্ষে।

আগামী সেপ্টেম্বরে নেপালে গিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুইটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদশে। তবে শক্তিশালী হংকংয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এই ম্যাচ দুটি যথেষ্ট নয়। কারণ লাল-সবুজের মুখোমুখি হওয়ার আগে হংকং খেলে আসবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশকে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে নিতে হবে তাদের মতোই প্রস্তুতি। তাই তাদের মুখোমুখি হওয়ার আগে একটি বা দুইটি শক্তিশালী ক্লাব দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার জন্য প্রতিপক্ষ খুঁজছে বাফুফে। বাফুফে প্রাধান্য দিচ্ছে সৌদি আরব, কাতার, চায়না, জাপান এবং থাইল্যান্ডের ক্লাব। 

ইতিমধ্যে বেশ কিছু শক্তিশালী ক্লাবকে প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্ট কমিটি। এই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম ম্যাচটি আগামী ২ অক্টোবর জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করছেন তারা। পরবর্তীকালে সময় ম্যানেজ করা সম্ভব হলে হবে দুইটি ম্যাচ। এ নিয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, 'আমরা নেপালের পরও আরও একটা বা দুইটা প্রীতি ম্যাচ খেলবো। যেটা আমাদের ফিফা উইন্ডোতে থাকবে না। হংকংকে নিয়ে আমরা অন্যভাবে চিন্তা করছি। যদি আমরা প্রথম ম্যাচ ২ তারিখে করতে পারি... এরপর ৪ তারিখে আরেকটা ম্যাচ। তারপরই হংকংয়ের ম্যাচ। মাঝে বিশ্রাম-রিকোভারির হিসাব-নিকাশ রয়েছে। তো ওই সময় কোনো জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলা হবে না খেলা হবে কোনো ক্লাব দলের বিপক্ষে।'

তবে এখনো কোন ক্লাবের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারে তা নিশ্চিত হয়নি। যদিও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ক্লাবকে নাকি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাবিথ বলেন, 'এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আমরা কাতার-সৌদি আরব... ইস্ট এশিয়াও (দলগুলো) বিবেচনায় আছে। যেমন জাপান, কোরিয়া, চায়না তাদেরও কিছু ক্লাব রয়েছে। আবার দক্ষিণ এশিয়াতে সবচেয়ে বড় লিগতো হলো, এখন থাইল্যান্ডের লিগ। তো সেখানকার শীর্ষস্থানীয় ক্লাবের বিপক্ষেও কিন্তু খেলা যায়। আমরা আলোচনা করছি, যারা আসতে পারে তাদেরই আমন্ত্রণ জানাবো।'

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

সব ঠিক থাকলে আগামী ৬ ও ৯ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুতে নেপালের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এই সফরকে ঘিরে আগামী ১৩ আগস্ট থেকে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করবে বাফুফে। তবে নেপালের স্কোয়াডে থাকবে না জাতীয় দলের দুই আলোচিত ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও সামিত সোম। এছাড়া অনূর্ধ্ব- ২৩ দলের পরিকল্পনায় থাকায় থাকবেন না ফাহমিদুল ইসলাম ও কিউবা মিচেলও। 

তবে অক্টোবরের পরিকল্পনায় থাকা এই একটি কিংবা দুইটি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে পারেন এই চার জনই। কারণ হংকংয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের সেরা একাদশ নিয়েই প্রস্তুতি নিতে চায় বাফুফে। তাবিথ বলেন, 'ওরা (হামজা, সামিত, ফাহমিদুল, মিচেল) আমাদের জানিয়েছে ওরা অক্টোবরে আসবে লম্বা সময়ের জন্য। তবে আমরা যদি তার আগে ট্রেনিংয়ে আনি তাহলে তাদের ফিফা উইন্ডোর বাইরে (ক্লাবের খেলা চলাকালীন) সময়ে চলে আসতে হবে। আবার ফিরবে কিন্তু আবার অনেক পরে... হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করে যাবে। তাই সেপ্টেম্বরে নেপালের বিপক্ষে তাদের কাউকেই পাওয়া যাবে না।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ