আমদানি নিষিদ্ধ শূকরের বর্জ্য মিশ্রিত ৬০ কন্টেইনার মাছের খাবার (ফিশ ফিড) আটক করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের মাধ্যমে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শূকরের ও বিভিন্ন গবাদি পশুর মাংস ও বর্জ্য মিশ্রিত ফিশ ফিড আমদানি হচ্ছে। মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তা এতোদিন ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। সরকার এক পর্যায়ে মাংস মিশ্রিত অর্থাত্ এমবিএম (মিট এন্ড বোন মিল) শর্ত সাপেক্ষে আমদানি নিষিদ্ধ করে দেয়। কিন্তু তারপরও ফিশ ফিড ও পশু খাদ্যের নামে ওই সকল নিষিদ্ধ পণ্য দেশে আমদানি হয়ে আসছে। অসাধু ব্যবসায়ী ও কাস্টমসের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজশে আমদানি নিষিদ্ধ এমবিএম মিশ্রিত পশু ও মাছের খাদ্য আমদানি হয়ে আসছে।
জানা যায়, এ সকল এমবিএম মিশ্রিত পশু খাদ্যের দ্বারা একটি মুরগীর বাচ্চা দুই সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ আকার ধারণ করে। দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমস আমদানিকৃত সকল ফিশ ফিড ও পশু খাদ্যসমূহ পরীক্ষার জন্য আটক করে। এ ধরণের প্রায় ১৫/২০টি চালান আটক করে এর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিনটি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক মাছের ও পশু খাদ্য ভর্তি কন্টেইনার আটক বা খালাস পর্যায়ে ব্লক করে দেয়া হয়। আটক কন্টেইনারসমূহের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ৬০ কন্টেইনারে ক্ষতিকারক ও আমদানি নিষিদ্ধ এমবিএম মিশ্রিত ফিশ ফিড পাওয়া গেছে।
গত ১১ জুন ও ২৬ জুন আটক মোট তিনটি প্রতিষ্ঠানের নমুনা পরীক্ষার পর আমদানি নিষিদ্ধ ফিশ ফিড পাওয়া যায়। গত ১১ জুন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আয়শা কর্পোরেশনের ২৫ কন্টেইনারের ৬০১ টন ফিডের নমুনা পরীক্ষা করে আমদানি নিষিদ্ধ এমবিএম এর মিশ্রন পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম কাস্টমসের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একাধিক পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করায় কিছু বেশী সময় লাগে। উক্ত নিষিদ্ধ এমবিএম মিশ্রিত ফিশ ফিড ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা হয়।
একই সময় ইন্দোনেশিয়ায় থেকে ঢাকার মগবাজারের প্রমেক এগ্রো এন্ড ফিড প্রোডাক্ট লিমিটেড ২৫ কন্টেইনার ফিশ ফিড আমদানি করে। ওই ফিড পরীক্ষা করে একইভাবে এমবিএম পাওয়া যায়। এই দু’টি পণ্য খালাসের জন্য সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্বে ছিল নগরীর বেঙ্গল লাইনার এজেন্সিস। গত ২৬ জুন থাইল্যান্ড থেকে ঢাকার মানিকগঞ্জের স্পেক্টা হেক্সা ফিডস নামক একটি প্রতিষ্ঠান ফিস মিলের নামে ১০ কন্টেইনার মাছের খাবার আমদানি করে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ওই আমদানি ফিস মিলেও নিষিদ্ধ এমবিএম বা শূকরের মাংসের বর্জ্য পায়। চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মো. ফখরুল আলম বলেন, এ পর্যন্ত আটক প্রতিটি নমুনা পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করা হবে। তিনি এমবিএমযুক্ত ফিশ ফিড আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
