১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের আগেই টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত হয় ১১ ডিসেম্বর। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে জেলার কোথায়ও বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো না হলেও খণ্ড খণ্ড বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের কারো কারো হাতে ছিল এই পতাকা। কোন কোন বাড়ি-ঘর ও দোকানপাটেও কিছু পতাকা উড়ানো হয়। এ পতাকাগুলোর কোন কোনটি ছিল কাগজ রঙ করে বানানো।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ফজলুল হক বীরপ্রতীক বলেন, ১১ ডিসেম্বর ভোর থেকেই টাঙ্গাইল শহরের চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে শহরে প্রবেশ করতে শুরু করে। ওইদিন টাঙ্গাইল মুক্ত হয় এবং এই মুক্তির আনন্দে উদ্বেলিত টাঙ্গাইলবাসী জয়বাংলা স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তুললেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোথায়ও পতাকা উড়িয়ে বিজয় উত্সব করা হয়নি। তবে এর আগে ১৪ আগস্ট বিকালে শহরের বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর (পরবর্তী সময়ে ‘কাদেরিয়া বাহিনী’ নামে পরিচিত) সর্বাধিনায়ক কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করেন। ওইদিন মুক্ত টাঙ্গাইলে এই স্কুলমাঠে প্রথম বিজয়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার প্রথম পর্বে মিত্র বাহিনীর মেজর জেনারেল নাগরাকে মুক্তিবাহিনীর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়। পতাকা উত্তোলনের সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল মুক্তিবাহিনীর বেসামরিক প্রধান আনোয়ার-উল-আলম শহীদ, প্রশাসক আবু মোহাম্মদ এনায়েত করিম, ব্রিগেডিয়ার ফজলুর রহমান, আব্দুস সবুর খান বীরবিক্রম প্রমুখ।
বিশিষ্ট রাজনীতিক ও মুক্তিযোদ্ধা কবি বুলবুল খান মাহবুব বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভারত ও ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ায় মুক্তিবাহিনীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার সৃষ্টি হয়। ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যার মধ্য মধুপুর হানাদার ঘাঁটি দখল করে নেন মুক্তিযোদ্ধারা। এই অবস্থায় ১০ ডিসেম্বর দুপুরের পর মিত্র বাহিনী সামরিক হেলিকপ্টারে আকাশপথে টাঙ্গাইলে আসে এবং শহরের উত্তরে পৌলিতে প্রায় দুই হাজার ছত্রিসেনা নামে। ঢাকার দিকে পালিয়ে যেতে শুরু করে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। পরদিন ১১ ডিসেম্বর ভোর থেকে বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করতে থাকেন। হাজার হাজার মানুষ জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা জানায়। এ দিন পরিকল্পিতভাবে কোথাও কোন পতাকা উত্তোলন না হলেও বিচ্ছিন্নভাবে লোকজন বাংলাদেশের পতাকা উঠিয়েছিল তাদের বাড়িতে ও দোকানপাটে।
