কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভার মাইজপাড়া এলাকায় একটি চুন কারখানায় বাখরাবাদ গ্যাসের পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।
অভিযানে দাউদকান্দি শাখার প্রকৌশলী অম্লান কুমার দত্তের নেতৃত্বে পাঁচটি পৃথক টিম অংশ নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ অভিযানে কারখানাটির মূল গ্যাস সংযোগ কেটে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুন কারখানাটির পেছনে রয়েছেন দেবিদ্বার উপজেলার ধামতি গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে আবু শাহীন। তিনি পৌরসভার মাইজপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হক শরীফ হকের স্ত্রী সুফিয়া বেগম এবং ছেলে মোহাম্মদ দুলাল শরীফের সঙ্গে চুক্তি করে জায়গাটি ভাড়া নেন। এরপর অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে বাখরাবাদ গ্যাসের মূল ৬ ইঞ্চি বিতরণ লাইন থেকে দেড় ইঞ্চি পাইপ এবং ভাল্ব ব্যবহার করে অবৈধ সংযোগ নিয়ে কারখানা স্থাপন করেন।
প্রতিটি পয়েন্টে ৫টি করে মোট ১০টি ১৫০ সিএফএইচ ফোকাস বার্নার ব্যবহৃত হচ্ছিল, যার ফলে বিপুল পরিমাণ গ্যাস অপচয় হচ্ছিল। এর ওপর দিয়ে ছিল ৪৪০ ভোল্টের মূল বিদ্যুৎ লাইন—যা যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। আশপাশে আবাসিক এলাকা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থাকায় ঝুঁকির মাত্রা ছিল অনেক বেশি।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন দাউদকান্দি শাখার ইনচার্জ প্রকৌশলী অম্লান কুমার দত্ত বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সরকারি সম্পদের অপচয় রোধে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। অভিযুক্ত আবু শাহীনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা ইসলাম বলেন, গ্যাস কর্তৃপক্ষ থেকে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি আমাদের জানানো হয় এবং তারা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
