যুক্তরাজ্যের একজন মন্ত্রী বলেছেন, ২০২৯ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাজ্য। আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, সোমবার (২৯ জুলাই) স্কাই নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস এ কথা বলেন।
তার মতে, মন্ত্রীরা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে চান এবং দেবেন। এই সংসদে স্বীকৃতি আসবে কিনা - জানতে চাইলে রেনল্ডস বলেন, 'এই সংসদে, হ্যাঁ। আমি বলতে চাইছি, যদি এটি আমাদের প্রয়োজনীয় অগ্রগতি প্রদান করে।'
তবে তিনি বলেন, 'ভুলে যাবেন না, আমরা এটি কেবল একবারই করতে পারি। যদি আমরা এটি এমনভাবে করি - যা প্রতীকী, এই সংঘাতের অবসান যদি না ঘটায়, তাহলে আমরা পরবর্তীতে কোথায় যাব?'
গাজা উপত্যকার ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ফিরে তিনি বলেন, 'বিমান থেকে ত্রাণ ফেলার মূল কথা হলো- আমরা অপেক্ষা করতে পারছি না...আমাদের কিছু করতে হবে। আমরা সকলেই মানবতার অবক্ষয় প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পাচ্ছি।'
প্রতিবেদন অনুসারে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কায়ার স্টারমার সরকারের কিছু জ্যেষ্ঠ সদস্যের চাপের মুখে রয়েছেন, যাতে অবিলম্বে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটি সম্প্রতি সরকারকে অবিলম্বে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের জন্য মিত্রদের সঙ্গে প্রস্তুতি নেয়।
কমিটির সভাপতি এমিলি থর্নবেরি এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে - অনেকের মধ্যে বিশাল হতাশা রয়েছে যে, সরকার ধারাবাহিকভাবে খুব কম, খুব দেরিতে কাজ করেছে।'
স্টারমারের ওপর চাপের আরেকটি লক্ষণ হলো, ২০০ জনেরও বেশি এমপি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তাকে আহ্বান জানিয়ে একটি আন্তঃদলীয় চিঠিতে সই করেছেন।
ইসরায়েলি বাহিনী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নৃশংস আক্রমণ চালিয়ে আসছে। এর ফলে ৬০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এই অবিরাম বোমাবর্ষণে অঞ্চলটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অঞ্চলটির ওপর যুদ্ধের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি।

