চবির নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে বিতর্ক, বিজ্ঞপ্তির কাট মার্ক না পেয়েও মনোনীত পাঁচ প্রার্থী

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৫, ২০:৪৪

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নানা গুঞ্জন। বিশেষ রাজনৈতিক মহলের চাপে নিয়োগ দেওয়া সহ অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে চলছে আলোচনা সমালোচনা। 

বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়েও একই প্রশ্ন উঠেছে। গত ২৮ জুলাই (সোমবার) চবির নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি পদের বিপরীতে অংশ গ্রহণ করেন প্রায় পঞ্চাশ অধিক প্রার্থী। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এক ঘন্টায় ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৬০% নম্বর প্রাপ্তদের পরবর্তী ধাপে ক্লাস প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত করার কথা উল্লেখ থাকলেও, নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় ঐ দিন কেউই ৩০ নম্বর পায়নি বলে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার পরীক্ষা পরবর্তী সময়ে নিয়োগ প্রার্থীদের কাছে জানিয়েছেন। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি অনুসারে লিখিত পরীক্ষায় ৬০% নম্বর না পেয়েও পাঁচ জনকে ঐ দিন নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের পরবর্তী ধাপের জন্য মনোনীত করা হয়।

পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে পরিচয় গোপন রেখে একাধিক নিয়োগ প্রত্যাশী প্রার্থী জানিয়েছেন, পরীক্ষায় যে প্রশ্ন এসেছে তার উত্তর করার জন্য এক ঘন্টা সময় খুবই অপ্রতুল ছিল। তারা আরও জানান, পরবর্তী ধাপের জন্য মনোনীতদের মধ্যে কোন নারী প্রার্থী কিংবা কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী ছিল না।

এছাড়াও লিখিত পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে মনোনীত একজন প্রার্থীর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে নিয়োগ বোর্ডে আগত দুই এক্সটার্নালের একজন নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নন, যা নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে নানাবিধ প্রশ্ন। নিয়োগ পরীক্ষাটিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত এক্সটার্নাল নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক হলেও তিনি বাংলা বিভাগে স্নাতকোত্তর বলে জানা গিয়েছে। অপরজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক। 

এই বিষয়েও প্রশ্ন তুলে নিয়োগ প্রত্যাশী প্রার্থীরা জানান, নাট্যকলা বিভাগের মতো প্রাচীন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অন্য বিভাগের শিক্ষক কি ভাবে এক্সপার্ট হিসেবে আসেন? এমন যদি হতো, নতুন করে দেশে নাট্যকলা বিভাগ খোলা হচ্ছে তাহলে হয়তো মাদার সাবজেক্ট হিসেবে বাংলা বিভাগের শিক্ষকগণ নিয়োগ বোর্ডে দায়িত্ব পালন করতেন। 

অপরদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানান অসংগতির কথা বলে অনেক প্রার্থীই বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের দারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন।

নিয়োগ বোর্ড বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্টের লেকচারার ও এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এই দুইটি পোষ্টের জন্য একটি বোর্ড হয় ১৯৭৩ এর এক্ট অনুযায়ী। সেখানে ভাইস চ্যান্সেলর ঐ বোর্ডে পিসাইড করেন। আর ডিপার্টমেন্টাল চেয়ারম্যান যদি এসোসিয়েট প্রফেসর বা এর তদূর্ধ্বর নিচে হয় তাহলে বোর্ডে থাকে না। আর এই দুজন হচ্ছে পদাধিকার বলে একজন ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান আরেকজন ভাইস চ্যান্সেলর। আর দুইজন বিষয় ভিত্তিক এক্সপার্ট থাকেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি ফাহমিদা সুলতানা তানজী বলেন, বিষয়টা আপনারা ভিসি মহোদয়ের কাছে জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমরা তো কেবলই মেম্বার এ বিষয়ে তারা যথার্থ জবাব দিতে পারবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, আমরা পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন হলে পলিটিক্যাল সাইন্স দিই, পলিটিক্যাল সাইন্স হলে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দিই। নাটক হলে বাংলাও আমরা দিতে পারবো, মিউজিকও দিতে পারব, নাটকের মধ্যে বাংলা আছে নাটকের মধ্যে মিউজিক আছে।

পরীক্ষায় নিয়োগ প্রার্থীদের মধ্যে কেউই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কাট মার্ক না পেয়েও পরবর্তী ধাপে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা পরীক্ষা দিয়েছে তারা তাদের নাম্বার জানতে চায় না কেন, কেউ জানতে চায় না, কেন জানতে চায় না! খাতা দেখতে চায় না। কেউ দেখতে চায় না কেন! তার মানে তারা জানে যে তারা কত পাবে। আমরা তো সবাইকে ডাকবো না। আমরা যদি একজনও সুইটেবল না পাই আবার এডভারটাইস করব।

ইত্তেফাক/এএইচপি