রক্তদহ বিলে প্রাণ ফিরেছে পাখি পল্লীর, বাড়ছে দর্শনার্থী

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৬

নওগাঁর রাণীনগরের ঐতিহাসিক রক্তদহ বিলের সংযোগ খাল রতনডারা। যে খালের দুই পাশ দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পাখি পল্লী, মৎস্য অভয়ারণ্য ও পর্যটন এলাকা। কিন্তু কিছুদিন আগেও খালে কচুরিপানার কারণে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এবার সরানো হয়েছে সেই কচুরিপানা। এতে বাড়তে শুরু করেছে দর্শনার্থী।

সেই সঙ্গে অপরূপ সুন্দর এলাকাটি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান।

তিনি জানান, এই খালের দুই পাশে পর্যটকদের সহজেই চলাচলের জন্য একটি আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতু দ্রুতই নির্মাণ করা হবে। এছাড়া রক্তদহ বিল ও খালে থাকা কচুরিপানা সরানো হয়েছে। এতে বিল-খালের পানির প্রবাহ যেমন বেড়েছে, ফিরেছে পাখি পল্লীর সৌন্দর্য। তাছাড়া পাখিদের আরও অবাধ বিচরণের জন্য পাখি ও পরিবেশে বান্ধব গাছ রোপণ করার কাজ চলছে।

দর্শনার্থী মো. হাসানুর রহমান বলেন, কচুরিপানার জন্য অনেকদিন এখানে আসতে পারেনি। এখন এগুলো সরানো হয়েছে। তাই পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে আবারও এসেছি। এখন সহজেই ঘুরাঘুরি করা যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন এলাকার দোকানদার শফিকুল ইসলাম জানান, পাখি পল্লীকে ঘিরে এই এলাকায় গড়ে উঠেছে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের। গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক দোকান। সম্প্রতি খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করে নৌকা চলাচলের উপযোগী করায় এখন পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে।

উল্লেখ্য, রক্তদহ বিল রাণীনগর উপজেলার একটি প্রাচীন জলাশয়, যা কৃষি, মাছ ধরা ও পাখির আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে মনে করেন, ব্রিটিশ আমলে এখানে কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল বলে ‘রক্তদহ’ নামটির উৎপত্তি হয়েছে। বিলটি জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ হলেও দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাণীনগর উপজেলার উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাইমেনা শারমীনের জলাশয়টিকে পুনর্জীবিত করার উদ্যোগ নেন। 

ইত্তেফাক/এপি