সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি নিয়ে বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিল মন্ত্রণালয়

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫, ১৪:৩৫

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য পঞ্চম শ্রেণিতে সরকারি বৃত্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু থাকলেও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এই বিষয়কে বৈষম্যমূলক দাবি করে ‘বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদ’।

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, এই বৃত্তি পরীক্ষা সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষা-সহায়ক ও আর্থিক প্রণোদনা কর্মসূচি, যা মূলত দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষা জরিপ অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত পরিবারের। পক্ষান্তরে, কিন্ডারগার্টেনভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণকারীরা তুলনামূলকভাবে সচ্ছল পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। তাই বৃত্তি পরীক্ষাটি সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা অংশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত।

প্রসঙ্গত, কিন্ডারগার্টেন সমূহ ইতোমধ্যে তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ২য় থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ‘কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন বৃত্তি পরীক্ষা’ চালু রেখেছে, যেখানে শুধুমাত্র কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরাই অংশ নিতে পারে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। এ পরিস্থিতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বৃত্তি পরীক্ষার দাবি ওঠে, যা পরবর্তীতে সরকারের উদ্যোগে চালু হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭(ক) অনুচ্ছেদ এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী, সকল শিশুর জন্য অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রাথমিক পর্যায়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ নীতি’ কার্যকর নয়। অভিভাবকেরা সন্তানকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো সম্পূর্ণ স্বেচ্ছার ভিত্তিতে করে থাকেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষা বৈষম্যমূলক—এমন অভিযোগ মন্ত্রণালয় অযৌক্তিক ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় এই বৃত্তি পরীক্ষা একটি প্রয়োজনীয় সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠার উপায় এবং এটি কোনোভাবেই অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করে না।

ইত্তেফাক/এনএন