মালিঙ্গাকে কোনো ছাড় নয়

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৯, ২১:০০

বাহারি চুল, ভিন্ন ধর্মী বোলিং অ্যাকশন, দুুরন্ত গতির লক্ষ্যভেদী ইয়র্কারের মূর্ত প্রতীক লাসিথ মালিঙ্গা। আন্তর্জাতিক একদিবসী ক্রিকেটে আজকের পর আর দেখা যাবে না শ্রীলঙ্কার এই পেস বোলারকে। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রথম ম্যাচই তার ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে ম্যাচ। টেস্ট ক্রিকেট ছেড়েছেন কয়েক বছর আগে, মালিঙ্গা আজ বিদায় বলবেন ওয়ানডে ক্রিকেটকে। যদিও ২০২০ টি-২০ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিত্ব করার আশা মনে ধারণ করছেন তিনি।

বিদায়ী ম্যাচে মালিঙ্গাকে জয় উপহার দিতে চায় শ্রীলঙ্কা। ঘটা করেই তাকে বিদায় দিতে প্রস্তুত হয়েছে লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড। দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সফল ফাস্ট বোলারের বিদায়কে রাঙাতে প্রেমাদাসায় থাকছে অনেক আয়োজন। ইতিমধ্যে আজকের ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপেও মালিঙ্গাকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত লঙ্কানরা।

সফরকারী বাংলাদেশ অবশ্য স্বাগতিকদের উত্সবে জল ঢেলে দিতে ছক কষছে। বিশেষ করে আজ ম্যাচ জয়ের হাসিটা হাসতে চান তামিম ইকবালরা। আর বিদায়ী ম্যাচে মালিঙ্গাকেও কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় টাইগাররা। তবে লঙ্কান এই গ্রেট ফাস্ট বোলারের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম।

গতকাল প্রেমাদাসায় ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মালিঙ্গার বিদায় নিয়ে তামিম বলেছেন, ‘একটি বিষয় নিশ্চিত যে যখন আমরা তার বিপক্ষে খেলব তখন আমরা মাথায় রাখব না যে এটি তার শেষ ম্যাচ এবং যতটা সম্ভব কঠিনভাবে খেলার চেষ্টা করব। বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি জেতার চেষ্টা করব। আমি তার সাফল্য কামনা করছি। তবে আগামীকালের (আজ) জন্য খুব বেশি নয়।’

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২২৫ ম্যাচে ৩৩৫টি উইকেট নিয়েছেন মালিঙ্গা। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দুটি হ্যাটট্রিক রয়েছে ডানহাতি এই বোলারের। ক্যারিয়ারে আটবার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ৩৮ রানে ছয় উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপেও বল হাতে নিজের কার্যকারিতা, অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এই পেস বোলার।

ওয়ানডেতে মালিঙ্গার অবদানকে সম্মান জানিয়ে গতকাল তামিম বলেছেন, ‘আমি মনে করি সে খেলাটির অসাধারণ একজন দূত। আমার মতে সে এমন একজন ক্রিকেটার যাকে অনেক ছোটো ছোটো খেলোয়াড় খেলতে দেখেছে। শুধু শ্রীলঙ্কায় নয়, পুরো বিশ্বেই। আমার এখনো মনে আছে যখন সে প্রথম খেলতে এসেছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিপক্ষে। মানুষ তার মতো বোলিং করতে চাইতো। এমনকি আমরা যখন শ্রীলঙ্কায় খেলতাম তখন মালিঙ্গার মতো বোলার খুঁজতাম নেটে। এই ধরনের প্রভাব সে ফেলেছে বিশ্ব ক্রিকেটে।’

খেলোয়াড়ী জীবন শেষে অস্ট্রেলিয়ায় থিতু হওয়ার সব আয়োজন পাকাপাকি করে ফেলেছেন মালিঙ্গা। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বও পেয়ে গেছেন। নিকট ভবিষ্যতে কোচিং পেশায়ও দেখা যেতে পারে এই লঙ্কান ক্রিকেটারকে।