রাশিয়ার তেল কেনার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত থেকে আমদানির ওপর উচ্চ শুল্ক ঘোষণা করার একদিন পর বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) মস্কো ও নয়াদিল্লি 'কৌশলগত অংশীদারিত্বের' প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দিয়ে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা আলোচনা করেছে।
ইন্টারফ্যাক্স সংবাদ সংস্থা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বছরের শেষ নাগাদ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ভারত।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগুর সঙ্গে দোভালের বৈঠকে উভয় পক্ষই দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।
২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ট্রাম্পের অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপের ঘটনাটি জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মার্কিন-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে 'গুরুতর ভাঙনের' ইঙ্গিত দেয়।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, শোইগু দোভালকে বলেন, 'একটি নতুন, আরও ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই বিশ্বব্যবস্থা গঠন, আন্তর্জাতিক আইনের শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করা এবং আধুনিক চ্যালেঞ্জ ও হুমকির বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই করার জন্য আমরা আরও সক্রিয় সহযোগিতার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
ইন্টারফ্যাক্স দোভালকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, 'আমরা এখন খুব ভালো সম্পর্ক স্থাপন করেছি, যাকে আমরা অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করি, আমাদের দেশগুলোর মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব।'
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত এবং চীন রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ ক্রেতা হয়ে উঠেছে। এটি রাশিয়ার অর্থনীতিকে 'শ্বাসরোধ' করার পশ্চিমা প্রচেষ্টাকে অনেকটাই ব্যর্থ করে দিয়েছে।
ভারতীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণার সপ্তাহখানেক আগে ট্রাম্প রাশিয়ান তেল কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ ভারতের ওপর মোট শুল্ক এখন ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লির ওপর অবৈধ বাণিজ্য চাপ প্রয়োগের জন্য মস্কো ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছে, ভারতের যার সঙ্গে ইচ্ছা বাণিজ্য করার অধিকার রয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন ভারতীয় কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দোভাল মস্কো সফরের সময় রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল ক্রয় নিয়ে আলোচনা করবেন। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও তিনি আলোচনা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারত ২০১৮ সালে পাঁচটি 'এস-৪০০' মডেলের দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি সই করে। নয়াদিল্লি বলেছে, চীনের হুমকি মোকাবেলা করার জন্য এগুলো তাদের প্রয়োজন।
কিন্তু এগুলো সরবরাহ বেশ কয়েকবার বিলম্বিত হয়েছে। মস্কো ২০২৬ এবং ২০২৭ সালে ভারতে শেষ দুটি 'এস-৪০০' ইউনিট সরবরাহ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লি ঐতিহ্যগতভাবে রাশিয়া থেকে অস্ত্র আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা নাটকীয়ভাবে সেই আমদানি কমিয়েছে এবং পশ্চিমা ক্রেতাদের দিকে ঝুঁকেছে।
