আওয়ামী লীগকে একদিন সবকিছুর জন্য জবাবদিহি করতে হবে

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৯, ২২:০৭

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের গণতন্ত্র হরণ করেছে, বিচার বিভাগ ধ্বংস করেছে, ব্যাংক লুটপাট করেছে, গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছে, মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। একদিন আওয়ামী লীগ সরকারকে এর জন্য জবাবদিহি করতেই হবে। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বর্তমান সংসদ বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি বিভাগীয় এই সমাবেশের আয়োজন করে।  সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। যিনি এই দেশের গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, সেই খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে।

তিনি অত্যন্ত অসুস্থ, তারপরও তার ঠিকমতো চিকিত্সা ও মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, বিচারপতি খায়রুলের একটি রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি এই সরকারকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ দাবি করে বলেন, এদেশে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। এখন দিনে-দুপুরে বিচারকের সামনে মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। দেশে একের পর এক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। তিনি বলেন, তিন বছরের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। এখন কারো জীবনেরই নিরাপত্তা নেই। মানুষ এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির চেয়ে এখন জরুরি হয়ে পড়েছে এই সরকারের পতন। এই সরকারের পতন ঘটলেই খালেদা জিয়া দ্রুত মুক্তি পাবেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই সরকার মামলাবাজ সরকার। এই সরকার ডেঙ্গু রোধে অ্যাডিশ মশা মারতে পারে না। অর্থমন্ত্রী অ্যাডিশ মশার ভয়ে সচিবালয়ে যেতে পারেন না, কিন্তু বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে মামলার পর মামলা দিতে পারে।

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিএনপির সহসভাপতি শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, মশিউর রহমান, অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দীন, সৈয়দ মেহেদী রুমী, কবির মুরাদ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, হাবিবুল ইসলাম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জয়ন্ত কুণ্ডু, রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, শামীমুর রহমান শামীম, অমলেন্দু রায় অপু, শফিউল বারী বাবু, আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, আমিরুল ইসলাম খান শিমুল প্রমুখ।