দেশের ১৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে সরবরাহের জন্য আখের উত্পাদন বাড়াতে চায় সরকার। অথচ আখের উত্পাদন প্রতিবছরই কমছে। ১০ বছর আগে ৩ লাখ ১২ হাজার একর জমিতে আখের আবাদ হতো। বর্তমানে আবাদ হচ্ছে ২ লাখ ২৩ হাজার একরে। এই সময়ে ১ লাখ একর জমি কমেছে। আর আখ উত্পাদনের চিত্রও একই রকম। ২০০৮-০৯ সালে আখের উত্পাদন ছিল ৫২ লাখ ৩২ হাজার টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উত্পাদন কমে নেমে আসে ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার টনে। উত্পাদন কমেছে ১৬ লাখ টন।
চাহিদা অনুযায়ী আমাদের দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন চিনি প্রয়োজন। এর মধ্যে উত্পাদন হয় মাত্র ৬০ হাজার টন। অবশিষ্ট প্রায় ১৯ লাখ ৪০ হাজার টন আমদানি করতে হয়। আখের উত্পাদন বাড়িয়ে ঘাটতি মেটানোর নানা পরিকল্পনা থাকলেও তা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ। আখের উত্পাদন না বাড়লে চিনির উত্পাদন কীভাবে বাড়বে সে প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের।
কৃষিবিজ্ঞানীরা বলছেন, দুটি কারণে আখের উত্পাদন কমছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল ‘মিলজোন’ এলাকায় আখ আবাদ করলে কৃষকদের বাধ্যতামূলক চিনিকলগুলোতে আখ সরবরাহ করতে হয়। না করলে জেল জরিমানার বিধানও আছে। অথচ কৃষকরা মিলে আখ সরবরাহ করার এক বছর পর মূল্য পায়। ফলে টাকা বিনিয়োগের দুই বছর পর তারা তা ফেরত পায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক।
অন্যদিকে আখ আবাদের শুরু থেকে ফসল তুলতে একবছর সময় লেগে যায়। অথচ এই সময়ে কৃষক ডাল, আলু, মসলাসহ একাধিক ফসল আবাদ করতে পারে। আখ দীর্ঘ সময় মাঠে থাকে, এ কারণে কৃষকরা আবাদে আগ্রহী হচ্ছে না। কৃষকরা বলছেন, আখ চাষ করে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আবার চাহিদা অনুযায়ী আখ না পাওয়ায় বছরের বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে চিনিকলগুলো।
কৃষিবিজ্ঞানীরা বলছেন, মিলজোন এলাকা বাদে দেশের অন্যান্য এলাকায় আখের আবাদ বাড়ছে। এর কারণ হিসাবে তারা বলছেন, এসব এলাকায় আবাদ করা হলেও কৃষকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো বিক্রি করতে পারে। চিবিয়ে খাওয়ার জন্য বাজারে বিক্রিতে আখ চাষ লাভজনক এমনটি বলছেন কৃষকরা।
বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. সমজিত্ কুমার পাল বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ৪৬টি উচ্চ ফলনশীল আখের জাত উদ্ভাবন করেছি। এর মধ্যে ১৫/১৬টি জাত ভালো ফলন দিচ্ছে। আমরা আখের নতুন জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে আরো গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকার আখের পরিবর্তে সুগারবিট আবাদে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত সুগারবিটের নতুন দুটি জাতও উদ্ভাবন করেছে। এ লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁও সুগারমিলকে সুগারবিট মিলে পরিবর্তন করার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এই মিলে সুগারবিট থেকে চিনি উত্পাদন এখনো শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এ কারণে কৃষকদের সুগারবিট আবাদের তাগাদা দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তবে আখ আবাদ লাভজনক করতে হলে সাথী ফসল হিসাবে অন্যান্য ফসল আবাদেরও পরামর্শ কৃষিবিজ্ঞানীদের।
