জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকেপ্রধান তথ্যদাতা  হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ১৮:৪৭

বাংলােেশ প্রায় ৭০ শতাংশ শিশুর জন্ম এবং ২০ শতাংশ শিশুর মৃত্যু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ঘটলেও, মাত্র ৪৯শতাংশ শিশু সময়মতো জন্ম নিবন্ধন সন পায়। বেশিরভাগ শিশুই স্বাস্থ্যসেবার আওতায় জন্ম নিচ্ছে, কিন্তু তারে জন্ম নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে একটি বড় ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১৬দশমিক ৯-এর (সবার জন্য আইনগত পরিচয় নিশ্চিতকরণ) অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। তাই, ২০০৪ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংশোধন করে সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান- হাসপাতাল, ক্লিনিক, মাতৃসদন ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের প্রধান তথ্যদাতা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়েছে নারী মৈত্রী।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর ফার্মগেটের দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়। ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ও গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহায়তায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসসহ বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংস্থার প্রতিনিধি অংশ নেন।


বৈঠকে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাশে কান্ট্রি লিড মুহাম্ম রুহুল কুদ্দুস বলেন, “বাংলাদেশে প্রায় ৭০% জন্ম ও ২০% মৃত্যু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি নিবন্ধন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করলে জন্ম নিবন্ধনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং প্রতিটি শিশুর আইনি পরিচয় নিশ্চিত হবে।”

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “সম্পূর্ণ সিভিআরভিএস তথ্য সংগ্রহ করা গেলে জাতীয় জনশুমারির প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে, এমনকি বিলুপ্তও হতে পারে।”


জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শাহ আলী আকবর আশরাফী উল্লেখ করেন, “আন্তর্জাতিক সেরা চর্চা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে প্রধান তথ্যাতা হিসেবে স্বীকৃতি েিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া হবে দ্রুত, সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ।”


নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আখতার ডলি বলেন, “আইন সংস্কারের জন্য সুশীল সমাজের জোটকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, যাতে ২০০৪ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা যায়।” বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা একটি যৌথ স্মারকলিপি স্বাক্ষর করেন, যা সরকারের প্রধান উপষ্টোর কাছে জমা দেওয়া হবে। এতে আইন সংশোধন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে প্রধান তথ্যদাতা হিসেবে বাধ্যতামূলক ঘোষণা এবং স্পষ্ট কার্যকরী নির্িেশকা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।


আয়োজকরে মতে, এসব পক্ষেপ বাংলাদেশে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো শিশুই আইনগত পরিচয় থেকে বঞ্চিত থাকবে না।

ইত্তেফাক/আইএ