বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান জানিয়েছেন, ইসরাইল ও তার মিত্রদেশের অর্থায়নে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীরা পড়বে না। চট্টগ্রামে অবস্থিত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) তহবিলের বড় উৎস ইসরাইলের মিত্ররা। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী পাঠাবে না ফিলিস্তিন। এছাড়া ওই বিশ্বাবিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এজন্যই তারা কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করেছিল।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেড় বছর আগে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার ২০০ ছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছিল এইউডব্লিউ। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়টির তালিকায় থাকা ছাত্রীদের মধ্যে ১৮৯ জনকে গত বছরের অক্টোবরে অন অ্যারাইভাল ভিসার অনুমতি দেয়। কিন্তু হঠাৎ চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসন এইউডবিøউ’র কর্তৃপক্ষকে ফিলিস্তিনি ছাত্রীদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের কথা জানায়। এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন।
রাষ্ট্রদূত রামাদান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ফিলিস্তিনিদের ধারাবাহিকভাবে উদার সহায়তা দিয়ে আসছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ফিলিস্তিন দূতাবাস বাংলাদেশে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়। অতীতে এইউডব্লিউ’তে একজন আফগান এবং একজন লাও শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। এই উদ্বেগগুলো ইসরাইলি সরকার এবং ফিলিস্তিনের প্রতি তার নীতিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থনকারী প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের সঙ্গে এইউডব্লিউ’র সম্পৃক্ততার কারণে আরও বেড়ে যায়। দূতাবাস বাংলাদেশে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের পড়তে আসাকে স্বাগত জানালেও, এমন প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার অনুমোদন দিতে পারে না, যাদের অধিভুক্তি বা তহবিল উৎস ফিলিস্তিনের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রাষ্ট্রদূত বলেন, এইউডব্লিউ’র প্রতিষ্ঠাতা চ্যান্সেলর হলেন চেরি ব্লেয়ার, যার স্বামী যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজার ‘রিভেরা’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত, যার একমাত্র লক্ষ্য হলো- যে কোনও উপায়ে গাজা উপত্যকাকে জাতিগতভাবে নির্ম‚ল করা। এইউডব্লিউ’র ট্রাস্টি বোর্ডে এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন যাদের ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। ফিলিস্তিন যাতে এইউডব্লিউ’তে শিক্ষার্থী পাঠায় এজন্য কিছু শক্তিধর দেশ চাপ দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি জানান, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীরা এইউডব্লিউ’তে নয় বাংলাদেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী। তিনি বলেন, আমাদের মেয়েরা বিক্রির জন্য নয়। তারা আমাদের সম্মান এবং আমরা আমাদের সম্মান রক্ষা করব।
