শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বরিশাল-ঝালকাঠি মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পোস্টার লাগানো হয়েছে। পোস্টার লাগানোর খবরে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের পক্ষে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগানো হয়। দিবাগত রাত ১০টার পর থেকেই এসব পোস্টার দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এর মধ্যে বরিশাল-ঝালকাঠি আঞ্চলিক মহাসড়কের নলছিটি থানার বিসিক, প্রতাপ, বরইতলা, ভৈরবপাশা, ষাটপাকিয়া, শ্রীরামপুর, আমিরাবাদসহ বিভিন্ন সড়ক এবং সড়কের পাশে থাকা ফলকে এসব পোস্টার দেখা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশ না করা শর্তে) বলেন, ‘পোস্টারগুলো কারা লাগিয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গভীর রাতেই এসব পোস্টার লাগানো হয়েছে।’
জানা গেছে , রাতের আঁধারেই এসব পোস্টার লাগানো হয়। ঘটনার পরপরই ঝালকাঠি-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি পেট্রোল পাম্প মোড়সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়। পাশাপাশি টহলে রয়েছে জেলা পুলিশের বিভিন্ন টিম। পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদও চলছে।
জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মুবিন বলেন, ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ রাতের আঁধারে পোস্টারিং করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের সাহস নেই প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি করার, তাই চোরের মতো রাতের আঁধারে পোস্টার লাগিয়েছে।’
এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ মধু তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্টারের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ঝালকাঠির বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগানো হয়েছে। যারা পোস্টার লাগিয়েছে, তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।’
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস ছালাম বলেন, ‘মহাসড়কে টহল পুলিশ কর্তব্য পালন করছে। হয়তো রাতের আঁধারে কেউ চোখ ফাঁকি দিয়ে পোস্টার লাগিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা এ কাজ করেছে, তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

