সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৫, ১৫:২২

টিনের চালে ধরেছে মরিচা। কোনও কোনও স্থানে ফুটো হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে ঘরের ভেতরে। ক্ষয়ে গেছে বেড়ার টিন আর কাঠ। দরজা ও জানালারও নাজেহাল অবস্থা। বেহাল ও জরাজীর্ণ এসব ঘরে কষ্ট করে বসবাস করছে চারঘাট উপজেলার আশ্রয়ণ দেড় শতাধিক পরিবার। অভিযোগ উঠেছে নির্মাণের পর থেকে ঘরগুলো আর সংস্কার করা হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শলুয়া ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পে আবাসন-১, আবাসন-২ এবং হলিদাগাছি প্রকল্পে প্রায় ৫০৪টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে আবাসন-১ ও ২ এর প্রায় ১৪০টি ঘর বসবাসের অনুপযোগী। এর ভেতরে বিভিন্ন সময়ে আগুনে পুড়ে প্রায় ৪৫টি ঘর একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। অধিকাংশ ঘরগুলোতে বৃষ্টির সময় নিত্য ব্যবহারযোগ্য আসবাবপত্রগুলো ভিজে যায়।

আবাসন-১ এর বাসিন্দা মারজিনা বলেন, ‘ঘর পেয়েছি ঠিকই কিন্তু সংস্কার না হওয়ায় এই ঘরে থাকা সম্ভব নয়। চালের টিন নষ্ট, বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে, কাপড়সহ সকল কিছু ভিজে যায়। আমরা ছেলে-মেয়ে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি।’

আবাসন-২ এর সাধারণ সম্পাদক স্বপন বলেন, ‘পুড়ে যাওয়া ঘরগুলো মেরামত করার জন্য বেশ কয়েক বার উপজেলা থেকে পরিদর্শন করে গেলেও আজ পর্যন্ত মেরামত করা হয়নি। জরাজীর্ণ এই ঘরগুলো মেরামত করার জন্য ইউএনওকে অবহিত করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি কিন্তু আমাদের সমস্যার সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছে না।’

আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে হলিদাগাছি আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি জলি বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ৫০টি ঘর আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ১১০টি ঘর ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই আশ্রায়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসিন্দাদের নিরাপদ পানি এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে ডাক্তার সংকটও রয়েছে। কর্ম না থাকায় প্রায় ১০০টি পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে অন্যত্র চলে গেছে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ লতিফ বলেন, ‘চারঘাট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের আশ্রায়ণ প্রকল্পে কাঁচাপাকা মিলে প্রায় ৮শ ৫০টি ঘর রয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এ ঘরগুলো ২৫-৩০ বছরের পুরনো। এর ভেতরে টিনশেড ঘরগুলোর বেড়া ও ছাউনি টিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে কিছু কিছু ঘরের টিন নষ্ট হতে পারে।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর সমস্যা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হবে।’

ইত্তেফাক/এমএইচএস/এএইচপি