সিলেটে যৌথবাহিনীর অভিযানে ফের ১১ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার, আটক ২

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৫, ২০:০৪

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও আশপাশের এলাকায় সাদাপাথর লুটপাট রোধে চালানো ধারাবাহিক অভিযানে আরও ১১ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। এ সময় পাথর লুটে জড়িত সন্দেহে আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

রোববার (১৭ আগস্ট) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আরডিসি আশিক মাহমুদ কবিরের নেতৃত্বে ধোপাগুল সংলগ্ন সালুটিকর ভাটা এলাকার একটি স্টোন ক্রাশার মিলের আঙিনা থেকে মাটিচাপা অবস্থায় এই বিপুল পরিমাণ পাথরের সন্ধান মেলে। স্থানীয় সূত্র বলছে, এসব পাথর চোরাচালান রোধে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চক্রটি তা মাটিচাপা দিয়ে লুকিয়ে রাখে।

একইদিন, গোয়াইনঘাট উপজেলার বিন্নাকান্দি এলাকা থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে আরও ২ হাজার ৫০০ ঘনফুট সাদাপাথর। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ইউএনও রতন কুমার অধিকারী।

এর আগে শনিবার ধোপাগুল এলাকায় একাধিক বসতবাড়ি ও ক্রাশার মিল থেকে উদ্ধার হয় ২.৫ লাখ ঘনফুট পাথর। চলমান এই অভিযানের আওতায় গত চার দিনে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ঘনফুট সাদাপাথর।

প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই সাদাপাথর এলাকা চরম লুটপাটের শিকার হয়। নদীর তীরে স্তূপ করে রাখা সাদাপাথর দিনে-দুপুরে নৌকায় করে সরিয়ে নেয় চক্রগুলো। স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

শুধু সিলেট সদর নয়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়ও একযোগে অভিযান চলছে। শুক্রবার জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪৫ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়। এসব পাথর পুনরায় ভোলাগঞ্জ ১০ নম্বর সাদাপাথর এলাকায় প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।

এদিকে, পাথর লুটে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। খনিজ সম্পদ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচজনকে। এছাড়াও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আলমগীর আলমকে গ্রেপ্তার এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ স্থগিত করা হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ধোপাগুল স্টোন ক্রাশার জোনে পাথরের বিশাল স্তূপ মাটিচাপা দিয়ে লুকানো হয়েছে। অনেক জায়গায় পাথরের ওপর বালু দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, তবে অনেক পাথর দৃশ্যমান অবস্থায়ই রয়ে গেছে।

সর্বশেষ হাইকোর্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে, সাত দিনের মধ্যে উদ্ধার করা পাথর যথাস্থানে প্রতিস্থাপন এবং লুটে জড়িতদের তালিকা আদালতে জমা দিতে হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৮০ শতাংশ সাদাপাথর লুট হয়ে গেছে। এর ফলে পর্যটকও কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। অনেক পাথর ইতোমধ্যে ছাতক হয়ে নদীপথে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার হয়ে গেছে।

ইত্তেফাক/আইএ