গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ৫০ শয্যার সরকারি এই হাসপাতালে ব্যস্ত দিনে রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। শুধু কালীগঞ্জ নয়, আশপাশের কাপাসিয়া, পলাশ ও রূপগঞ্জ থেকেও রোগীরা এখানে ভিড় করেন।
শয্যা সংকট থাকা সত্ত্বেও আবাসিক বিভাগে প্রায় ৯০ জন রোগীকে ভর্তি রাখতে হয়। কেবিন ও ওয়ার্ড পূর্ণ হলে করিডোরে বিছানা পেতে রোগী ভর্তি করা হয়। একদিনে ৫০ জন নতুন রোগী ভর্তি হলে চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা আন্তরিক হলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে সেবায় ঘাটতি দেখা দেয়।
এই হাসপাতালে ২২ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ জন। এর মধ্যে ৪ জন ডেপুটেশনে এবং একজন অনুপস্থিত। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য নাক-কান-গলা, কার্ডিওলজি, চক্ষু, ফিজিক্যাল মেডিসিন, সহকারী সার্জন ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকও নেই।
তৃতীয় শ্রেণির ৯২টি পদের মধ্যে ২৪টি শূন্য, চতুর্থ শ্রেণির ২৫ পদের মধ্যে কর্মরত মাত্র ৬ জন। দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৫টি পদই পূর্ণ রয়েছে। স্বাস্থ্য সহকারী, আয়া, বাবুর্চি, মালি, ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার, নিরাপত্তা প্রহরীসহ প্রায় সব পদেই জনবল সংকট রয়েছে।
নরসিংদীর এক বাসিন্দা মো. আবদুল করিম বলেন, 'এখানে চিকিৎসা পেতে ভিড় অনেক বেশি। ডাক্তাররা চেষ্টা করেন সেবা দিতে, কিন্তু রোগীর চাপ এত বেশি যে ঠিকমতো সময় পাওয়া যায় না। তবুও আমাদের মতো গরিব মানুষের ভরসা এই হাসপাতাল।' কালীগঞ্জের রোকসানা আক্তার জানান, 'বাইরে থেকে ওষুধ ও পরীক্ষা কিনতে হয়, তবুও এখানে আসি কারণ খরচ কম।'
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদ জানান, এই হাসপাতালে নিয়োগ সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়, শূন্য পদ পূরণে উদ্যোগ চলছে।”
এছাড়াও গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, 'জনবল সংকট সারাদেশেই সমস্যা। তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, নিয়োগ শুরু হলে ধাপে ধাপে সংকট কেটে যাবে।'
