গাজায় মৃত্যু একবারে আসে না, কিস্তিতে আসে

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৫, ১৭:৩৩

গাজার ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে ডিজিটাল মিডিয়ায় পড়াশোনা করা জনাতের জীবন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। তিনি আল-জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ নুফালের বোন। সম্প্রতি ভাইয়ের নিহত হওয়ার সংবাদে তিনি গভীর শোকের মধ্যে আছেন।

জনাতের পরিবার প্রায় দু’বছরের মধ্যে ক্রমশ পরিবারের সদস্য হারাচ্ছেন। ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর, যুদ্ধে মাত্র তিন সপ্তাহ পর; জাবালিয়ায় তাদের বাড়িতে একটি রকেট আঘাত হানে। জনাত ও তার ভাইবোনরা বেঁচে থাকলেও ভাই মোহাম্মদ গুরুতর আহত হন এবং তাদের চাচা ও চাচী নিহত হন।

এক বছর পর, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর- আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে বোমার আঘাতে বড় ভাই ওমার নিহত হন। ২০২৫ সালের ২২ জুন, ইসরায়েলি বোমার আঘাত আত্মীয়দের সঙ্গে তার মা মুনীরা নিহত হন। 

সবশেষে ১০ আগস্ট, আল-শিফা হাসপাতালে নিকটবর্তী একটি মিডিয়া তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় জনাতের ভাই মোহাম্মদ এবং আরও ছয় সাংবাদিক নিহত হন। এখন জনাতের জীবিত পরিবারে শুধুমাত্র বাবা রিয়াদ, ভাই ইব্রাহিম এবং তিন বোন- ওলা, হাদীল, হানান বেঁচে আছেন।

জনাত বলেন, ‘যখন বড় ভাই ওমার মারা গেলো, আমরা আমাদের বাবাকে বলতে শুনেছিলাম, ‘ওহ আল্লাহ, তুমি আমার পিঠ ভেঙে দিয়েছো’। মা মুনীরার মৃত্যুতে বাবার কণ্ঠ কেঁপে ওঠে এবং বললেন, ‘আমরা বিধ্বস্ত’। ভাই মোহাম্মদ নিহত হলে তিনি কিছুই বললেন না। বাবার সেই নীরবতা আমার মাঝে ভয়ের সঞ্চার করে।’

মোহাম্মেদ নিহত হওয়ার পরে জনাত বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন ছোট ভাই ইব্রাহিমকে সাংবাদিকতা ত্যাগ। কিন্তু ইব্রাহিম পারিবারিক দায়িত্ব পালনের জন্য ও মৃত ভাইয়ের পথ অনুসরণ করতে চান।

জনাতের কথায়, ‘ভয় আর অস্থায়ী অনুভূতি নয়, এটি আমাদের জীবনের স্থায়ী সঙ্গী। শোক আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রবেশ করেছে।’

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ পরিবার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়েছে এবং ৫ হাজার ১২০ পরিবারের কেবল একজন সদস্য বেঁচে আছেন। অনেক পরিবার ক্রমাগত বোমার আঘাতের ভয়ে অস্তিত্বহীনতার মুখোমুখি। জানাত নিজের পরিবারও এই ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। বাবা ঘাসান এবং তাদের বড় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অনেকজজন ধীরে ধীরে মারা গেছেন।

বর্তমানে গাজার উত্তরাঞ্চলে নতুন ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়েছে। গতবছরের এই আক্রমণে লাখো মানুষ নিহত হন। জনাতের পরিবার, যারা জাবালিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ধরে রেখেছিল, এবার নিরাপত্তার জন্য চলে যাবেন।

জনাত বলেন, ‘আমরা এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর সহ্য করতে পারছি না। আমরা আর মৃত্যু চাই না।’

সূত্র/আল-জাজিরা

 

ইত্তেফাক/কেএইচ