বান্দরবানের রুমায় পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে অভিযুক্ত পাঁচজনকে ছেড়ে দিয়েছেন সামাজিক নেতারা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তুমুল সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সবশেষ ধর্ষণে অভিযুক্ত ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ আগস্ট) তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন- উহাইসিং,ক্যহ্লাওয়াং,ক্যসাইওয়াং মারমা।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের পাইন্দু হেডম্যান পাড়ায় সালিশি বৈঠকে অভিযুক্তদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের আপোষও করিয়ে দেওয়া হয়।
মেম্বার গংবাসে মার্মা বলেন, চলতি মাসের প্রথমে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে পাইন্দু হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা রাংমেশে মার্মার ছেলে শৈহাইনু মার্মা। বিষয়টি তার মাধ্যমে তার বন্ধু ক্যাহ্লা ওয়াইং, ক্য ওয়ং সাই, চহাই, উহাই সিং ও ক্য সাই ওয়ং জানতে পারে। পরে ভয় দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে এই ছাত্রীকে সুযোগ বুঝে একে একে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। এতে সবার মধ্যে এ ঘটনা জানাজানি হয়। এ অবস্থায় কারবারি থোয়াইসা মারমার বাসভবনে ধর্ষণসংক্রান্ত সামাজিক সালিশি বিচার করা হয়। অভিযুক্ত পাঁচজনকে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ জরিমানা কয়েক দিনের মধ্যে জমা দেবে। তারপর ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীকে এই টাকা দেওয়া হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা জানাজানির পর সমালোচনার ঝড় উঠে। এরপর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সবশেষ বুধবার তিনজনকে আটক করা হয়।
রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, পুলিশ সুপার এর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আসামিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সত্যতা নিশ্চিত করে তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়েছে। এতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত উহাইসিং, ক্যহ্লাওয়াং, ক্যসাইওয়াং মারমা নামে তিনজনকে আটক করা হয়েছে । বাকি দুজনকে ধরতে অভিযান চলছে।
