চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্ব দিতে হইবে

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৯, ২০:৪০

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের  লেদার সেক্টর বিজনেস কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে বৃহস্পতিবার ‘চামড়া শিল্পনগরী, ঢাকায় ট্যানারি কারখানায় চামড়া  উত্পাদন পরিস্থিতি ও টেকসই উন্নয়নে প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হইয়াছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা যথার্থই চামড়াশিল্পে উত্পাদন ও রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতাগুলি তুলিয়া ধরিয়াছেন। বক্তারা বলিয়াছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা থাকিলেও বাংলাদেশ সেই সুযোগ গ্রহণ করিতে পারিতেছে না। পরিবেশগত কমপ্লায়েন্সসহ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করিতে না পারিলে এই খাতে রপ্তানি বাড়ানো যাইবে না। সেমিনারে উপস্থিত খোদ শিল্পমন্ত্রীও দেশের চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি কমিয়া যাওয়ার কথা স্বীকার করিয়াছেন।

সেমিনারের বক্তব্য এবং বিদ্যমান চামড়া রপ্তানি পরিসংখ্যান আমাদের জন্য একটি হতাশার বার্তা প্রদান করে। বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে গার্মেন্ট খাতের পরেই চামড়াশিল্পের নাম উচ্চারিত হইয়া থাকে। অথচ এই শিল্পে রপ্তানি কমিয়া যাওয়া মোটেই শুভলক্ষণ নহে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় করিয়াছে ১০১ কোটি ডলার, যাহা পূর্বের বত্সরের তুলনায় ৬ শতাংশ কম। এই চামড়াজাত পণ্যের ২২০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আন্তর্জাতিক বাজার রহিয়াছে। এই পিছাইয়া পড়ার কারণগুলিও চিহ্নিত। সরকার এই রপ্তানিমুখী খাতের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। তাই হাজারীবাগ হইতে সাভারের হেমায়েতপুরস্থ পরিকল্পিত শিল্পনগরে স্থানান্তর করা হইয়াছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই শিল্পনগরের বর্জ্য ব্যবস্থা যথাযথভাবে গড়িয়া তোলা যায় নাই। যাহার কারণে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবেশগত সনদের স্বীকৃতিও মিলে নাই। আমরা জানি, এই শিল্পকে গার্মেন্ট খাতের মতন চাঙ্গা করিতে হইলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলির সহযোগিতা প্রয়োজন হইবে। সাভারে শিল্পের তরল এবং কঠিন বর্জ্যের একটি বিরাট অংশ নদীতে ফেলা হইতেছে। কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের ক্রোম রিকভারি ইউনিট প্রায়ই বন্ধ থাকার কারণেই বিশাল পরিমাণ বর্জ্য ধলেশ্বরী নদীতে নিষ্কাশন করা হয় বলিয়া অভিযোগ আছে। দ্বিতীয়ত, এই শিল্পনগরীতে অবকাঠামো যেইরকম হওয়ার কথা ছিল তা এখনো গড়িয়া তোলা যায় নাই। জানা গিয়াছে, এই শিল্পনগরীর ১২১টি ট্যানারির ১২০ কোটি বর্গকিলোমিটার চামড়া উত্পাদনের ক্ষমতা থাকিলেও বর্তমানে উত্পাদন হইতেছে অনেক কম। এইরকম পরিবেশ থাকিলে না মিলিবে সনদ, না পাওয়া যাইবে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলির সহযোগিতা। 

তবে আশার কথা হইল, পরিস্থিতি উত্তরণে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হইবে বলিয়া জানাইয়াছেন শিল্পমন্ত্রী। এই টাস্কফোর্স প্রতি সপ্তাহে  চামড়াশিল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করিয়া ইহার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিবে। ইহা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে। কিন্তু যত দ্রুত সম্ভব অবকাঠামোগত দুর্বলতা কাটাইয়া উঠার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিতে হইবে বলিয়াই আমরা মনে করি। মনে রাখিতে হইবে, শুধু উত্পাদন বাড়াইলেই চলিবে না, বিদেশি ব্র্যান্ডগুলির সহযোগিতা পাইতে হইলে চামড়াশিল্পের পরিবেশগত উন্নয়ন প্রয়োজন সর্বাগ্রে।