১০৪ বছরের মাদ্রাসার ছাদ খসে পড়ছে, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা-ব্যাহত পাঠদান

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৫, ১৬:০৪

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বোরহানউদ্দিন কামিল (আলিয়া) মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় ৪৭ বছর আগে নির্মিত দ্বিতল ভবনের ছাদের পলেস্তারা নিয়মিত খসে পড়ছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ভবনের সিঁড়ির পাশে বড় একটি অংশ ধসে পড়ে। ওই সময় কেউ সেখানে না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ছয় মাস আগে ক্লাস চলাকালীন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে আলিম শ্রেণির চার শিক্ষার্থী আহত হয়। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের চারটি শ্রেণিকক্ষ বন্ধ রেখে পাঠদান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ এ এইচ এম অলিউল্লাহ জানান, ১৯৭৭ সালে নকশা ছাড়া ১০ ইঞ্চি ইটের দেয়াল দিয়ে প্রথম তলা এবং ১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় তলা নির্মাণ করা হয়। ভবনের কোথাও রডের কলাম ছিল না, ফলে বয়স ও জলবায়ুর প্রভাবে বর্তমানে ছাদে ফাটল, রডে মরিচা এবং পানি চুঁইয়ে পড়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরনো ভবনের নিচতলা ও দোতলার করিডোর এবং শ্রেণিকক্ষে একাধিক স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। পূর্ব পাশের একটি কক্ষে ছাদের ফাঁক দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত করছে। সম্প্রতি দুটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়েছে। এতে কক্ষের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ছে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ বি আহমদউল্লাহ আনছারী জানান, ‘প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। ২০১৯-২০ অর্থবছরে একটি সাইক্লোন শেল্টার কাম একাডেমিক ভবন নির্মাণ হলেও তাতে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। বিজ্ঞান ভবন ও ছাত্রাবাসের অবস্থাও জরাজীর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘সরকারিভাবে একটি নতুন একাডেমিক ভবন এবং প্রশাসনিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রয়োজন। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও এই মাদ্রাসা ব্যবহৃত হয়, তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

বোরহানউদ্দিন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আ. সাত্তার বলেন, ‘ভবনটি সংস্কারের পর্যায়ে নেই, এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবনের উদ্যোগ নিতে হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোরায়হান-উজ্জামান বলেন, ‘নতুন ভবনের আবেদন পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/এসজেএস/এমএএস