চীন সীমান্তের কাছে উত্তর কোরিয়ার গোপন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি: মার্কিন প্রতিবেদন

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৫, ১৯:০১

চীন সীমান্তের কাছে উত্তর কোরিয়ার একটি গোপন, অর্থাৎ পূর্বে প্রকাশ পায়নি এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি রয়েছে। এটি পূর্ব এশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য 'সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি' সৃষ্টি করতে পারে। বুধবার (২০ আগস্ট) থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রকাশিত একটি নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, 'সিনপুং-ডং' ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিটি চীন সীমান্ত থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটিতে নয়টি পারমাণবিক সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং লঞ্চার সংরক্ষিত থাকতে পারে।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, এই ঘাঁটিটি উত্তর কোরিয়ার ১৫ থেকে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ওয়ারহেড স্টোরেজ সুবিধার মধ্যে একটি। এটি উত্তর কোরিয়া কখনোই প্রকাশ করেনি।

সিএনএন জানায়, প্রতিবেদনটি স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ, উত্তর কোরিয়ার শরণার্থী ও কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার, গোপনীয়তামুক্ত নথি এবং ওপেন-সোর্স ডেটার ভিত্তিতে তৈরি। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, 'এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পূর্ব এশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি সৃষ্টি করে।'

গত কয়েক বছরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের অধীনে অস্ত্র কর্মসূচি বেশ ত্বরান্বিত হয়েছে। তারা দ্রুত সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীক করছে, নতুন অস্ত্র উন্নয়ন করছে এবং আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় যে কোনো স্থানে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গোপন ঘাঁটিটি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ। এটি একটি সরু পাহাড়ি উপত্যকায় অবস্থিত। এর বিস্তৃতি প্রায় ৫৪৩৬ একর, যা নিউ ইয়র্কের কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চেয়েও বড়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তের কাছে এর অবস্থান ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক - যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো এটিতে হামলা করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে পারে। কারণ সেখানে কোনো পরিণতি পার্শ্ববর্তী চীনকে প্রভাবিত করতে পারে।

মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্র অনুসারে, ঘাঁটির নির্মাণ কাজ ২০০৪ সালে শুরু হয়েছিল এবং এটি ২০১৪ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। তখন থেকে ঘাঁটিটি 'সুরক্ষিত' এবং সক্রিয়ভাবে বিকশিত হচ্ছে - যা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার চলমান অগ্রগতির প্রতিফলন ঘটাতে পারে।

ঘাঁটিতে কোন মডেলের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত আছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গবেষকরা বিশ্বাস করেন, এটি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক-সক্ষম 'Hwasong-15' বা 'Hwasong-18' অথবা অন্য কোনো ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘাঁটিতে ট্রান্সপোর্টার লঞ্চার বা মোবাইল লঞ্চার রয়েছে - যা দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছুড়তে সক্ষম। এছাড়া সঙ্কট বা যুদ্ধের সময় এই লঞ্চার এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঘাঁটি থেকে দ্রুত সরানোও যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাঁটির ভেতর অনেক সুযোগ-সুবিধা দেখা গেছে। প্রবেশদ্বার চেকপয়েন্ট, সদর দপ্তর ভবন, গুদাম, ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা সুবিধা এবং ছোট আবাসন ভবন রয়েছে। এর মধ্যে কিছু কিছু জায়গা গাছ এবং ঝোপ দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ঢেকে রাখা হয়েছে - যার ফলে স্যাটেলাইট ছবিতে এগুলো সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রসঙ্গত, উত্তর কোরিয়ার কাছে ৪০ থেকে ৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সেই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে এবং সম্ভাব্যভাবে মার্কিন মূল ভূখণ্ডে সেগুলো পাঠানোর উপায়ও রয়েছে। কিম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার বক্তব্য আরও তীব্র করেছেন, দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি সুসংগঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এসকে