অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি গণহত্যা যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৬২ হাজার ৬২২ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭১ জন নিহত এবং ২৫১ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬৫ জনে।
মন্ত্রণালয় একই সময়ে অনাহার ও অপুষ্টির কারণে আরও ২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। এর মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। এর ফলে দুর্ভিক্ষজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ১১২ জন শিশু।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনেক ভুক্তভোগী এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে বা রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় চলা গণহত্যা চলতি বছর সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হলেও গত ১৮ মার্চ ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি এবং বন্দী বিনিময় চুক্তি ভঙ্গ করে পুনরায় আক্রমণ শুরু করে।
দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী মানবিক সাহায্যের জন্য আসা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই ধরনের হামলায় ২৪ জন নিহত এবং ১৩৩ জন আহত হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পর ২৭ মে থেকে ইসরায়েল জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে একটি পৃথক সাহায্য বিতরণ উদ্যোগ শুরু করেছে। এতে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ত্রাণ সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
গাজার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ মে থেকে সাহায্য চাইতে গিয়ে ২ হাজার ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৫ হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছেন।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের পূর্ণ অবরোধের ফলে ২৪ লাখ বাসিন্দার জন্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে দুর্ভিক্ষ, ব্যাপক রোগব্যাধি এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো একেবারে ভেঙে পড়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য নেতানিয়াহু ও তার প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। উপত্যকাজুড়ে যুদ্ধের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি।
