চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বছর জুড়ে মাঠে জলাবদ্ধতা খেলাধুলা ও অ্যাসেম্বলি হয় না

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৯, ২১:১৮

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শহরতলী এলাকার পাঁচথুবী ইউনিয়নের ৮১ বছরের পুরোনো চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দীর্ঘ বছর ধরে কোনো খেলাধুলা, অ্যাসেম্বলি, অভিভাবক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় না। এ বিদ্যালয়ের নিচু মাঠটি ভরাট না করার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় এটি জলমগ্ন থাকে।

এতে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি মাড়িয়ে নাকে রুমাল দিয়ে শিক্ষক ও শিশুশিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে যাওয়া-আসা করেন। গত দুই বছর ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কুমিল্লা জেলা পরিষদ ও আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদে মাঠটি ভরাটের বরাদ্দের জন্য আবেদন করলেও কোনো কাজ হয়নি। ফলে এ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধূলার বঞ্চনাসহ অসহনীয় দুর্ভোগের মাঝেই বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করতে হচ্ছে। এদিকে বছর জুড়ে মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৩৮ সালে ৪০ শতক জায়গায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। কুমিল্লা শহরতলীর ডুমুরিয়া-চাঁদপুর এলাকা থেকে একটু নিচু স্থানে এই বিদ্যালয়ের অবস্থান। এখন এ বিদ্যালয়ে আট জন শিক্ষক ও ২০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এ বিদ্যালয়ে একটি একতলা পাকা ভবন এবং তিন কক্ষের টিনশেডের একটি ভবন রয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের পুরো মাঠে পানি থইথই করছে। এ পানিতে হাঁসের ঝাঁক ডুবসাঁতারে মেতে উঠছে। বাতাসে পচা পানির উত্কট গন্ধ ছড়াচ্ছে।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদা বেগম জানান, ‘এখানে যোগদানের পর প্রায় ২১ বছর ধরে দেখে আসছি বিদ্যালয়ের মাঠটি বছরের প্রায় ১০ মাস জলমগ্ন থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি এবং খেলাধুলাও করানো যাচ্ছে না। এ ছাড়া এই বিদ্যালয়ে অবকাঠামোর সমস্যা ও বেঞ্চ সমস্যা রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতাই এখন প্রধান সমস্যা। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে।’

কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, ‘৮১ বছরের এই বিদ্যালয়ে সীমানাপ্রাচীর ও ফটক ছিল না, বর্তমানে তা নির্মাণ করা হয়েছে। এখন জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য মাঠটি ভরাট করা প্রয়োজন। এজন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।’

আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম টুটুল বলেন, ‘বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার মানুষ তাদের বাড়িঘরে ও প্লটে মাটি ফেলে উঁচু করার কারণে বিদ্যালয়ের মাঠে পানি ঢুকে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এই বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এখানে চারতলার একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ হবে, তখন মাঠ ভরাট করা হবে। এখন মাঠখানা ভরাট করলে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে দুর্ভোগ আরো বেড়ে যাবে। আশাকরি সহসা এ অবস্থার নিরসন হবে।’