খেলোয়াড়দের আত্মোপলব্ধি চান লিপু

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৫, ১৫:১৩

শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নেদারল্যান্ডস সিরিজ ও এশিয়ার কাপের জন্য লিটন কুমার দাসকে অধিনায়ক করে ১৬ সদস্যদের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। চমক হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন নুরুল হাসান সোহান ও সাইফ হাসান। যদিও প্রায় তিন বছর থেকে জাতীয় দলে হয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলেননি সোহান। সাইফও ২০২৩ এশিয়ান গেমসের পর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াতে পারেননি। জাতীয় দলে না খেললে ঘরোয়া এবং 'এ' দলের সিরিজগুলোতে সোহান ও সাইফ নির্বাচকদের মন জয় করতে পেরেছেন।

তবে স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তিন ফরমেটের সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তরুণ পেসার নাহিদ রানা। যদিও টি-টোয়েন্টি ফরমেটে শান্ত গেল ১৯ ম্যাচ দেখা পাননি অর্ধশতকের। অন্যদিকে নিজের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রথম ম্যাচে ৫০ রান খরচের পর আর সংক্ষিপ্ত ফরমেটে জায়গা হয়নি এই পেসারের। নেদারল্যান্ডস ও এশিয়া কাপের স্কোয়াড নিয়ে গতকাল বিসিবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। যদিও তিনি জানিয়েছেন, এশিয়া কাপের জন্য এই স্কোয়াড চূড়ান্ত নয়, তবে বড় কোনো পরিবর্তনও আনা হবে না। 

ডাচ সিরিজের পর এবং এশিয়া কাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার সময়ে দুই-একটি নাম পরিবর্তন হতে পারে। এই তালিকায় রাকিবুল-আফিফদের ওপর নজর থাকবে নির্বাচকদের। তবে দলের নিয়মিত খেলোয়াড়রা কেন বাদ পড়েন, সেই বিষয়ে খেলোয়াড়দের আত্ম-উপলব্ধি চান প্রধান নির্বাচক লিপু। 

শান্ত-নাহিদের বাদ পড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'যখন কেউ তার জায়গাটা হারান, তখন আমার কাছে মনে হয়, প্রত্যেকের নিজে থেকে একটা উপলব্ধি আসা উচিত। আমি কেন জায়গাটা হারাচ্ছি এবং কী করলে তা ফিরে পাবো। এই ভাবনাটা একতরফা হওয়া উচিত না। নির্বাচকরা বলে দেবে, তুমি এই কারণে বাদ যাচ্ছ। আত্ম-উপলব্ধির জায়গাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তারপর যদি কোনো জানালা খোলা থাকে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে সবসময় রাজি আছি।'

সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ছিলেন নাঈম শেখ। প্রথম ম্যাচে আশার আলো দেখালেও পরের দুই ম্যাচে হতাশ করেছেন এই ওপেনার। মূলত এই ওপেনারের জায়গা সুযোগ পেয়েছেন সাইফ হাসান। এই অলরাউন্ডারের প্রতি নির্বাচকরা আস্থা রাখতে চাইছেন। কেননা দলের প্রয়োজনে ব্যাট এবং বল হাতে দুই দিকই সামলাতে পারবেন তিনি। এই নিয়ে লিপু বলেন, 'এক ওভার-দুই ওভার তিনি করে দিতে পারবেন। তিন-চার নম্বরে কিংবা যদি ওপেনার দরকার হয়, সে আলোকে সাইফের দিকে চোখ ছিল। তাই এবার তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় অবদান রাখতে পারে এমন খেলোয়াড় খুঁজছি আমরা।' 

তবে নাঈম নির্বাচকদের হতাশ করেছেন। নাঈমকে নিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, 'সে তার জায়গা ধরে রাখতে পারলে তার ও দলের জন্য ভালো হতো। দুর্ভাগ্যবশত সেটা হয়নি। আরেকটু কম চ্যালেঞ্জে টপ এন্ড ক্রিকেটে সেখানেও তিনি ভালো করতে পারেননি। আমার বিশ্বাস নাঈম শেখ এখন জানে তাকে এই জায়গাটা পুনরুদ্ধার করতে হলে আরও উন্নতি করতে হবে।' 

বেবি উইলো এবং ম্যাচিউর উইলো হবে। যার কারণে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবসময় সবার দিকে নজর রাখতে চান প্রধান নির্বাচক লিপু। দলে অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্য নিয়ে তিনি বলেন, 'দল বাছাইয়ের সময় অনেকের নামই আমাদের আলোচনায় আসে। সেখানে বেবি উইলো যেমন আসে, ম্যাচিউর উইলোও আসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেবি উইলোও ম্যাচিউরড উইলো হবে। তাই সবার দিকেই নজর থাকে। আমরা সেভাবেই জিসানের দিকে নজর রাখছি। আমার মতে, তার কিছুটা সময় দরকার ম্যাচিউর হতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত হতে।'

এই দল নিয়ে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে কতদূর যেতে পারবে বাংলাদেশ। এই বিষয়ে বাস্তবতা এবং আবেগ এক পাত্রে রাখতে চান না প্রধান নির্বাচক। তবে এর আগে তিনবার এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেন লিপু। একদিন বৈশ্বিক আসরে বড় ট্রফি জিতবে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ নিয়ে কতটা আশাবাদী প্রধান নির্বাচক নিজে। এই বিষয়ে বলেন, 'আবেগের জায়গা থেকে বললে, আমিও আশা করি দল চ্যাম্পিয়ন খেলার লক্ষ্যে যাবে। তবে এনালিটিক এবং লজিক্যাল চিন্তা করলে বুঝতে পারবেন দল কোথায় দাঁড়িয়ে আছে এবং সেখানে কতখানি চ্যালেঞ্জ আছে।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ