ট্রাম্পকে খুশি করতে দেশের তুলাচাষিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে মোদি: কেজরিওয়াল

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০২:৩০

শুল্কযুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। আম আদমি পার্টির (আপ) আহ্বায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল অভিযোগ করেছেন, "মোদি সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতে গিয়ে দেশের তুলাচাষিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।"

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কেজরিওয়াল বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার তুলার ওপর ১১ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে বিদেশি তুলা দেশের তুলার চেয়ে সস্তা হবে। ফলে দেশের তুলাচাষিরা উৎপাদিত তুলা বিক্রি করতে পারবেন না। শেষ পর্যন্ত তাদের আত্মহত্যা ছাড়া উপায় থাকবে না।"

সরকার প্রথমে তুলার শুল্ক প্রত্যাহারের মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করলেও বৃহস্পতিবার তা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কেজরিওয়াল বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা তুলা স্থানীয় তুলার দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ রুপি সস্তা হবে। এতে লাখ লাখ তুলাচাষির জীবন হুমকির মুখে পড়বে, বিশেষত গুজরাট, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চলে।"

তিনি আরও জানান, অক্টোবরে যখন দেশের নতুন তুলা বাজারে আসবে, তখন বস্ত্র ব্যবসায়ীরা আগেই সস্তা বিদেশি তুলা কিনে মজুত করে রাখবেন। ফলে দেশীয় তুলা বিক্রি করা সম্ভব হবে না। "গত বছর সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টালপ্রতি ৭ হাজার রুপি ধার্য করলেও কৃষকদের ৬ হাজার রুপিতে বিক্রি করতে হয়েছিল। এবার দাম আরও কমে যাবে। মাঠের তুলা মাঠেই নষ্ট হবে," বলেন তিনি।

মোদি সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেজরিওয়াল দাবি করেন, "চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও মেক্সিকো ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু মোদি সরকার মাথা নত করেছে।" তার অভিযোগ, মোদি যুক্তরাষ্ট্রে চলমান গৌতম আদানির বিরুদ্ধে মামলার কারণে প্রিয় শিল্পপতিকে বাঁচাতে ট্রাম্পের চাপে নতি স্বীকার করেছেন।

কেজরিওয়াল সরকারের কাছে দাবি জানান, অবিলম্বে তুলার আমদানি শুল্ক ফের চালু করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলার ওপর অন্তত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে হবে। এ বিষয়ে আম আদমি পার্টি আগামী ৭ সেপ্টেম্বর গুজরাটের সুরেন্দ্রনগরে কৃষক সমাবেশ করারও ঘোষণা দিয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম