৭৫ বছর বয়স হয়ে গেলে নবীনদের কাজ করার সুযোগ দিয়ে সরে যাওয়ার পক্ষে মত দেওয়া ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস-এর প্রধান মোহন ভাগবতের মুখে এবার শোনা গেল ভিন্ন সুর। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) তিনি বলেছেন, সংঘে কারও বয়স ৭৫ পার হলেই পদ ছাড়তে হবে - এমন কোনো নিয়ম নেই।
মোহনের এ মন্তব্য নিয়ে দেশটিতে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। ১১ সেপ্টেম্বর ৭৫ পূর্ণ করে ৭৬ বছরে পৌঁছালেও তিনি অবসরে যাবেন না - এমন গুঞ্জন উঠেছে। একইভাবে তার চেয়ে মাত্র ৬ দিনের ছোট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও ৭৫ পূর্ণ হওয়ার পর 'দায়িত্বমুক্ত' হতে হচ্ছে না - এটিও স্পষ্ট হচ্ছে।
ভারতীয় রাজনীতিতে এ নিয়ে গুঞ্জনের কারণ মূলত দুটি। প্রথমত, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়ে নরেন্দ্র মোদি ৭৫ পার হওয়া শীর্ষ নেতাদের অবসর নিতে বাধ্য করেছিলেন। লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলি মনোহর যোশী, যশোবন্ত সিংদের মতো নেতাকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরিয়ে 'পরামর্শদাতা' করে রেখেছিলেন। মোদিও তখন বুঝিয়ে দেন, ৭৫-এর পরের বয়সটা অবসরে যাওয়ার।
মোদির তৈরি এই নিয়মে সায় দিয়ে মোহন কিছুদিন আগে নাগপুরে এক অনুষ্ঠানে একসময়ের শীর্ষ সংঘ নেতা মোরেপন্ত পিঙ্গলের একটি উদ্ধৃতি দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, তিনি বলেছিলেন, '৭৫ বছরের চাদর কাঁধে জড়িয়ে নিলে বুঝতে হবে বয়স হয়েছে, তখন অন্যদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।'
কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার সংঘের শতবর্ষ উদযাপনের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'আমরা সকলে স্বয়ংসেবক। আমাদের যা দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাই পালন করতে হয়। সেখানে বয়সকে অজুহাত করা যায় না।'
তার বর্তমান দাবি, নিয়ম মেনে বয়স নির্বিশেষে প্রত্যেককেই কাজ করতে হয়। ভাগবতের ভাষ্য, 'আমি ৮০ বছর বয়সেও যদি থাকি এবং সংঘ যদি বলে শাখা চালাতে হবে, তবে আমাকে তা করতেই হবে। কারণ সংঘ যা বলবে, আমরা তাই করি।'
এদিকে মোদিপন্থীরা একাধিকবার বলেছেন, ২০২৯ সালের আসন্ন নির্বাচনেও বিজেপির নেতৃত্ব দেবেন নরেন্দ্র মোদি। মোহন ভাগবতের ব্যাখ্যা মোদির অবসরের জল্পনায় আপাতত জল ঢালবে বলে বিজেপির একাংশের ধারণা।
