রাজধানীর বাড্ডায় ‘ছেলেধরা’ গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেনুর সব খুনিকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন ঢাকায় বসবাসকারী লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলাবাসী। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে অংশ নেন রেনুর দুই সন্তান মাহীর ও তুবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। মানববন্ধন চলাকালে সড়কে দাঁড়িয়ে তুবা কাঁন্না শুরু করে। তাকে কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করছিলেন স্বজনরা। তুবা এখনো ভাবছে এবং আশা করছে তার মা ফিরে আসবেন। বারবার মাকে খুঁজছিল। আর তুবার ভাই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মাহির ছিল চুপচাপ।
মানববন্ধনে রেনুর বোন নাজমুন নাহার নাজমা বেগমও বলেন, আর কোনো শিশু যেন এভাবে মাতৃহারা না হয়। তিনি বোনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। রেনুর ফুফাতো ভাই মো. আব্দুর রহমান ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, গুজবের কারণে ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
মানববন্ধনে সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ বলেন, ‘রেনুর দুই সন্তান ভবিষ্যতে যেন মানুষ হতে পারে, প্রধানমন্ত্রী সে পদক্ষেপ নেবেন। দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা সবাই দেখা করব।
রোটারিয়ান রফিকুল হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো অংশ নেন মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামসুল ইসলাম পাটোয়ারী, রেনু হত্যা মামলার বাদী ও নিহতের ভাগনে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু এবং মানববন্ধন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান ও সদস্য সচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল।
