মিঠাপুকুরে ৭ দিনে সাপের কামড়ে ২ জনের মৃত্যু

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৯, ১৬:২০

রংপুরের মিঠাপুকুরে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিষাক্ত সাপের কামড়ে রংপুরের মিঠাপুকুরের রানীপুকুর ইউনিয়নে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন আরও ১৩ জন। এখন সাপ আতঙ্কে দিন কাটছে ইউনিয়নের দশ গ্রামের মানুষের।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে রানীপুকুর ইউনিয়নের ভক্তিপুর দোলাপাড়া গ্রামে গিয়ে জানা যায়, শনিবার (২০ জুলাই) থেকে শুক্রবার (২৬ জুলাই) পর্যন্ত ৭ দিনে সাপের কামড়ে দুই জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় হাছেন আলীর ছেলে সালাউদ্দিন (১৮) রবিবার (২১ জুলাই) সকালে পাট ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন। ওই দিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।এ ঘটনার তিনদিন পর একই গ্রামে আলম মিয়ার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া রানা মিয়া রাতে ঘুমাতে গিয়ে নিজ ঘরে সাপের কামড়ের শিকার হন। আক্রান্ত রানাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরবর্তীতে তারও মৃত্যু হয়।

খাপুর গ্রামের আতোয়ার রহমান বলেন, 'হঠাৎ করে গ্রামে ছোট বিষাক্ত কালো সাপের উপদ্রব বাড়ছে। গত সাত দিনে আশপাশের গ্রামের অন্তত ১৫ জন সাপের দংশনে আক্রান্ত হয়েছে। গরু-ছাগলও নিরাপদ নয়। শুক্রবার সকালে দোলাপাড়া গ্রামে একটা ছাগলও মারা গেছে।' ভক্তিপুর দোলাপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক গোলজার হোসেন বলেন, 'সাপের আতঙ্কে গ্রামের মানুষ বাড়ি ছেড়ে বাইরে থাকছে। হাসপাতালে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন নাই, এ কারণে গ্রামের মানুষের মনের মধ্যে ভয় কাজ করছে।'

মৃত. রানা মিয়ার মা রানু বেগম ও বাবা আলম মিয়া  জানান, হাসপাতালে সাপের কামড়ের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ নাই। ভ্যাকসিনের অভাবে তার ছেলের অকাল মৃত্যু হয়েছে। একটা ছোট কালো সাপকে বোতলে বন্দি করা হয়েছে। তবে ওই সাপটি কামড় দিয়েছে কিনা তারা জানা যায় নি। ভক্তিপুর আবাসন গ্রামের নুরনাহার বেগম বলেন, 'গত বছর সাপের দংশনে এই গ্রামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একটা গরুও মারা যায়। এ বছর আবারও সাপের উপদ্রব শুরু হয়েছে।'

আরও পড়ুন:  দক্ষিণ কোরিয়ায় নাইট ক্লাব ধসে নিহত ২

এদিকে, গত সাত দিনে ভক্তিপুর দোলাপাড়াসহ খাপুর, চূহড়, গাচুয়াটারী গ্রামে তাজনগর, বিশ্বনাথ খাপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে অন্তত ১৩ জন সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে দোলাপাড়া গ্রামে লোকমান (৩৫), মৃত. রানা মিয়ার বাবা আলম মিয়া (৩৮), আব্দুর রউফ (৫২), জয়নাল আবেদীন (৬০), শফিকুল ইসলাম (২৫), বকুল মিয়া (৬০), চূহড় গ্রামের জিন্নাহ্ আলী (৫২), বিশ্বনাথ খাপুর গ্রামের রাশেদা বেগমের (৪০) নাম জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।আহতরা ইতিমধ্যে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বিভিন্ন কবিরাজের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এসব গ্রামে এখন সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি