যুবাদের জন্য ইউসেপ বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:৫২

জেন্ডার ডাইভার্স কমিউনিটি ও ‘জুলাই ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে’ অংশ নেওয়া যুবাদের জন্য একটি বিস্তৃত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করেছে ইউসেপ বাংলাদেশ। কর্মসূচির আওতায় অংশগ্রহণকারীদের কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদান করে কর্মসংস্থান, মর্যাদা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে।

এই উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউসেপ বাংলাদেশের চেয়ারপার্সন ড. ওবায়দুর রব।

কর্মসূচির আওতায় কেয়ারগিভিং, জাপানি ভাষা ও গ্রাফিক ডিজাইন কোর্স চালু করা হয়েছে। উইমেনস কর্নার উদ্বোধনের মাধ্যমে নারীদের জন্য আলাদা সহায়তা ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শুধু দক্ষতা অর্জন করবেন না, বরং সম্মানজনক কর্মসংস্থান ও সমাজে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

উল্লেখ্য, ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ইউসেপ বাংলাদেশ এর মধ্যে স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, জুলাই–আগস্ট ২০২৪ আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ জন যুবাকে আগামী দুই বছরের মধ্যে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনা হবে।

প্রধান অতিথি শারমিন এস. মুরশিদ বলেন, ইউসেপ বাংলাদেশের এই উদ্যোগ সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে একটি মাইলফলক। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তারা কেবল আত্মনির্ভরশীলই নয়, জাতীয় উন্নয়নের অংশীদার হতে পারবে।”

ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে অনন্য উদাহরণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমকে সম্প্রসারিত করা হবে।

ড. ওবায়দুর রব বলেন, জেন্ডার ডাইভার্স ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বাদ রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সমাজে ন্যায় ও সমতার ভিত্তি গড়ার একটি পদক্ষেপ।

নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আবদুল করিম বলেন, এটি শুধু কর্মসংস্থান তৈরির প্রচেষ্টা নয়; এটি সামাজিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনার একটি আন্দোলন। ইউসেপ বাংলাদেশ কাউকে পিছিয়ে না রাখার প্রতিশ্রুতিতে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, ইউসেপ কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণার্থীরা ও গণমাধ্যমকর্মীরা। সবাই সম্মিলিতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি